অনুমোদনহীন ফার্মেসি দেড় লাখ!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

গোটা দেশে অনুমোদনহীন ফার্মেসি রয়েছে দেড় লাখ! বেশিরভাগ দোকানেই ফার্মাসিস্ট নেই।

এসব অনিয়মের জন্য তদারকির অভাবকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে প্রায় ৭০ শতাংশ ফার্মেসি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারণেই বাড়ছে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি। আর মালিক পক্ষও খুব সুন্দরভাবে একের পর একটি ওষুধ বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলর এসব অভিযোগ করা হলে তারা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের ওষুধ বিপণনের অন্যতম বাজার রাজধানীর শাহবাগ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই শাহবাগেরই ৭০ ভাগের বেশি ফার্মেসি চলছে মেয়াদ্দোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কারও দুই বছর কারও তিন বছর আগেই পেরিয়ে গেছে লাইসেন্সের মেয়াদ।

এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী বলেন, গত দুই বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসায় করেছি। গতকাল লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য দিয়েছি।

প্রতিটি ফার্মেসিতে বিশ্ববিদ্যালয় পাস, ডিপ্লোমা করা অথবা ঔষধ কাউন্সিলের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে ফার্মাসিস্ট থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই।

ফার্মেসিতে কাজ করেন এমন একজন জানান, আমি ফার্মাসিস্ট না, যে ছিলো সে করোনার সময়ে বাড়িতে চলে যান। অভিজ্ঞতা থেকে এখন ওষুধ দিচ্ছি।

এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকির অভাবকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর কারণে হুমকি পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া একজন ফার্মাসিস্টের কাজ। এটা যদি অন্য কেউ করে থাকে তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা হুমকিস্বরূপ।

ফার্মেসি পরিচালনায় অনিয়মের কথা স্বীকার করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আশ্বাস বাংলাদেশ ঔষুধ কাউন্সিলের।

বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ মাহাবুবুল হক বলেন, ফার্মেসিতে ড্রাগ লাইসেন্স এবং ফার্মেসি রেজিস্ট্রশন দুইটিই লাগবে। না হলে এটা বন্ধ রাখতে হবে। এতে যদি অভিযোগ আসে; তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

দুরন্ত/২৮আগস্ট/পিডি