আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন মিলন, রামেন্দু ও মুরশিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পুরস্কার প্রাপ্তদের উপস্থিতিতে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে এক প্রাণবন্ত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে পুরস্কার প্রাপ্তরা নিজেদের অনুভুতি প্রকাশ করেন।

এ সময় আলোচনায় উঠে আসে উনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের অজানা বিভিন্ন কথা।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলনকে ‘মায়ানগর’ উপন্যাসের জন্য, গবেষক ও লেখক গোলাম মুরশিদকে ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত নজরুল-জীবনী’র জন্য আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আজীবন অবদানের জন্য জনপ্রিয় উপস্থাপক ও নাট্য ব্যাক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারকে আইএফআইসি ব্যাংক সংস্কৃতিরত্ন সম্মাননা ২০২০ ঘোষণা করা হয়।

জুম মিটিংয়ের শুরুতে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারোয়ার স্বাগত বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বোর্ড এই সাহিত্য পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে খুবই ইতিবাচক। যার জন্য এমন একটি আয়োজন সম্ভব হচ্ছে। মহামারীর কারণে এবার এখনো অনুষ্ঠান করা হয়নি। তবে ফরমাল একটি অনুষ্ঠান অবশ্যই হবে। আজকের জুম মিটিংয়ে সবার উপস্থিতিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘আইএফআইসি ব্যাংক বিশ্বাস করে যে কোন দেশের আইন শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে অন্য কাঠামো যত মজবুতই হোক না কেন, মানুষের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক উৎর্কষতা জরুরি।’

পুরস্কার প্রাপ্তিতে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘শুরুতেই যারা আমায় এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই পুরস্কার আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করি। আসলে আমি নিজের আত্মজীবনী নিয়ে লেখার চেষ্টা করছিলাম। আমার জীবনের শুরু থেকে এই পর্যন্ত।’

গোলাম মুরশিদ বলেন, ‘পুরস্কার প্রাপ্তীর কথা জানার পর কিছুটা আশ্চর্য হয়েছি। ভেবেছি আমায় কেন? নতুন তরুণ কাউকে দিলে উৎসাহ পেতো। আমিতো ৩৮ বছর বিদেশে থেকে দেশের মানুষের কাছে মৃত। তবে এই পুরস্কার আবার আমায় জীবিত করলো। আমার লেখায় সব সময় নতুন কিছু উৱঘাটন করার চেষ্টা করেছি।’

আইএফআইসি ব্যাংক সংস্কৃতিরত্ন সম্মাননা ২০২০ পাওয়া রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমি স্বীকৃতি ও অর্জনের জন্য কাজ করিনি। সময়ের চাহিদা মেটাতে কাজ করেছি। আমি না থাকলে অন্য কেউ এই কাজটি করত। এটি সম্ভব হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ থাকার কারণে।’

জানা যায়, বরেণ্য সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচকদের নিয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী, বাছাই কমিটি ও বিচারকমণ্ডলী সেরা দু’টি বই নির্বাচন করে থাকেন। প্রতি বছরের মতো এবারও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত লেখকদের ৫ লাখ টাকা (প্রতিটি বইয়ের জন্য), সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ‘আইএফআইসি ব্যাংক সৃজনশীল সাহিত্যের সহযাত্রী’- স্লোগান নিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সৃজনশীল সাহিত্যকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে এই সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে পুরস্কারটি সবার কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্থমূল্যে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৮ সাল থেকে ‘আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’-এর পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য দেশের দু’জন অগ্রজপ্রতিম সাহিত্যিককে ‘সাহিত্যরত্ন সম্মাননা’ দিয়েছে ব্যাংকটি।

এই সম্মাননার আর্থিক মূল্যমান ১০ লাখ টাকা। ১ম বছর অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এবং ২য় বছর জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে এ সম্মাননাটিকে সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত করে যেসব জীবন্ত কিংবদন্তি আজীবন অবদানের মাধ্যমে কাজ করে চলেছেন, তাদের সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।