আবার উৎসব মুখর প্যারিসের উড়বে ফানুস

রায়হান ইসলাম:

একদিন রঙিন সাজে সাজবে আবার মতিহারের সবুজ চত্বর। সবুজে মোড়ানো এক টুকরো নীলাভূমির বুকে ফিরে আসবে চাঞ্চল্যতা। ইবলিশ চত্বরে বেজে ওঠবে বিজয়ের গান। প্রভাত ফেরির মিছিলে আন্দোলিত হবে প্যারিস বুক। ফুলে ফুলে ভরে যাবে শহীদ মিনার চত্বর। মুক্ত মঞ্চটি কেঁপে ওঠবে সংগ্রামী কবিতায়। হলের ছাঁদে ছাঁদে উড়ঁবে ফানুস।

মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে আবার প্যারিসের বুকে।রঙ্গ-বিরঙ্গের শাড়িঁ আর পঞ্জাবিতে মুখরিত হয়ে উঠবে চারুকলার প্রাঙ্গন, রঙ্গিন সাজে সাজবে আবার সমস্ত ক্যাম্পাস। বিকেল গড়াতেই বেড়ে যাবে বাসন্তী ফুল মাথায় গুঁজা নব্য যুগলদের পদচারণা।

সন্ধ্য়ায় ইবলিসের মাঠে জ্বলে উঠবে রকমারি বাতির ঝঁলকানি। গিটারের তালে তালে মেতে উঠবে প্রাঙ্গন। সুরে সুর মিলিয়ে গাইতে গিয়ে গলা ভেঙ্গে ঘরে ফিরবে অনেকে।

জনশূন্য টুকিটাকি চত্বরটি ভরে যাবে আবার। কড়া লিকারে আদাযুক্ত লাল চায়ে চুমুক দিতে মরিয়া হবে সবাই।
চা কাপের টুংটাং ঝংকারে মুখরিত হয়ে উঠবে চারপাশ। গল্প-গুজব আর খুনসুটিতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে হবে রাত। তবুও মন চাইবে বসিই না আর একটুখানি!

প্যারিস রোডের পাশে রঙ্গিন আলোয় গিটারের তালে মেতে উঠবে গান।গানের দলে সঙ্গী হবে আবার গগন শিরীষ হতে নেমে আসা জোনাকির ঝাঁক।

নবীনদের পদচারণায় আবার মুখরিত হবে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। স্বপ্নের প্রাঙ্গণে ছুটে বেড়াবে নব্য রাবিয়ান। আবার সজ্জিত হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন। যেথায় নবীন বুনবে স্বপ্ন, গাইবে গান। জানতে পারবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।

যেখানে সাবাস বাংলা ভাস্কর্য তারুণ্যের হৃদয়ে আলোড়ন জাগিয়ে দিবে। আর বধ্যভূমির নিশ্চুপ ইতিহাসের ভয়াবহতার শিহরণ জাগাবে। শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী চত্বর, জোহা স্যার এর কবর সম্মানে দৃষ্টি অবনত করতে বাধ্য করবে।

লাইব্রেরী চত্বরটি ভরে যাবে আবার জ্ঞান পিপাসুদের আড্ডায়। জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে রাবিয়ার তার স্বপ্নের পথে বহুদূর।

এদিকে বর্ষার বৃষ্টিস্নাত প্যারিসে প্রিয় মানুষের হাত ধরে হাঁটতে দেখা যাবে আবার নব্য যুগলদের। আর গুনগুনিয়ে গাইবে গান-

“এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন…

কিংবা, আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব, হারিয়ে যাব আমি তোমার সাথে…. “

এদিকে রাকসু ভবনে চলবে আরার সংস্কৃতিক জোটের গান,আবৃত্তি, নৃত্য আর নাটকের মহড়া। আর রাকসু প্রাঙ্গণে বসে লতিফ ভাইয়ের চা কাপে চুমুক দিতে দিতে হঠাৎ ভেসে আসা নাট্যকর্মীদের হি হি, হা হা,হু হু হাসির শব্দে কর্মতৎপর, মনমরা আর বিচলিত সাংবাদিকদের মনে জাগাবে হাসির ঢেউ! সঙ্গীত শিল্পীদের গানে মনে দিবে দোলা! মহুর্তেই রোমান্টিক জগতে ফিরে যাবে মন, গেয়ে উঠবে গান-

“আবার এলো যে সন্ধা, শুধু দুজনে…”

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই…”

পাশ থেকে বেজে ওঠবে সংস্কৃতিক কর্মীর গিটারের আওয়াজ। জমে উঠবে আড্ডা।

শুধু একটি সুস্থ ভোরের প্রতীক্ষায়। যেদিন রাবিয়ানদের পদচারণায় আবার প্রাণ ফিরে পাবে প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত এই মতিহারের নীলাভূমি!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী