ইউএনওকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই যুবলীগ নেতাকে আটক

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) হত্যাচেষ্টার ঘটনায় উপজেলা আহ্বায়কসহ দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক দুজন হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলাম।

এ দুজনের দলীয় পদ-পদবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শিবলী সাদিক।

গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।

পরে ইউএনও ওয়াহিদা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিতে আসলে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। মেয়ের চিৎকারে পাশের ঘর থেকে বাবা ওমর আলী উঠে আসলে তাকেও জখম করে দুর্বৃত্তরা।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন ঘোড়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করলে ভোররাতেই ঘোড়াঘাট যুবলীগের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আটক জাহাঙ্গীর আলম ও আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে।

এছাড়া চলতি বছরের ১৩ মে ঘোড়াঘাট পৌরসভার মেয়র আবদুস সাত্তার মিলনকে তুচ্ছ ঘটনায় মারধর করেন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। এই ঘটনায় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরকে পুলিশ আটকও করেছিল।

যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এর আগে হাকিমপুরের হিলিতে মাদক সেবন করে মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করে পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে সেদিন ছাড়া পায়।

এছাড়াও এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল, চোরাচালান, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আটক দুজন মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে।