উপজেলা চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে ঢুকতে বাধাতে শ্রমিকলীগ সংঘর্ষ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আগস্ট মাসের ৬ তারিখে বরখাস্ত হন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু।

রবিবার দুপুরে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের রায় নিয়ে নিজের কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষের বাধা ও দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার কারণে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। তিনি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি।

এ সময় দু-পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সরকারি কর্মচারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২৮মে পৌর মেয়র, দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেন।

বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) একেএম মাসুদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৬ আগস্ট তাঁকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরখাস্ত করে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে পরিষদের এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

সে সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদলতে রিট পিটিশন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেনু।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি উবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের যৌথ বেঞ্চ রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের রায় দেন। রায়ের কপি হাতে নিতে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রেনু।

পরে পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মিছিলসহ উপজেলা পরিষদের দিকে যেতে থাকেন। মিছিলটি পাকুন্দিয়া থানা গেটের কাছে পৌঁছলে প্রতিপক্ষ উপজেলা শ্রমিক লীগের শতাধিক নেতকর্মী মিছিলটির উপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের সমর্থকের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এ সময় উভয়পক্ষের উত্তেজিত কর্মী সমর্থকরা দা, লাঠি, বল্লম নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপের যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. হাবিবুর রহমান মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে আহত হন। এ ছাড়াও উভয়পক্ষের অন্তত আটজন কর্মী সমর্থকও আহত হয়েছেন। পরে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে আমাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরাখাস্ত করা হয়েছে। আমি বিষয়টির ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞানের কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। অথচ আমাকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আতাউল্লাহ সিদ্দিক বলেন, চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মিছিল থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তাই শ্রমিক লীগের কিছু কর্মী তাদের বাধা দেয়।

পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।