একটি স্বপ্নের পথে রাবির ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন ‘ইচ্ছে’

রায়হান ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

একটি স্বপ্ন, একটি অঙ্গীকার, এক ঝাঁক উচ্ছ্বাসিত তারুণ্যের দ্বীপ্ত শপথে কালের পরিক্রমায় জাতি পেয়েছে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান। যাদের পদচারণায় জাতি নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস করেছে। যাদের সেবায় মৃতপ্রায় চারা পেয়েছে প্রাণের স্পন্দন। ফলে বদলে গেছে জাতি, বদলেছে দেশ। স্বপ্ন দেখেছে বিশ্ব।

বলছিলাম তেমনই এক দৃঢ় প্রত্যয়ী ব্যতিক্রমধর্মী ‘ইচ্ছে’ নামক সংগঠনের কথা।

‘মেধা দেই শ্রম দেই, আর্তমানবতার সেবা করি,পৃথিবীকে বদলে দেই’

স্লোগানকে সামনে রেখে একঝাঁক তারুণ্যের দীপ্ত অঙ্গীকারের পথ ধরে ২০১২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী যাত্রা শুরু করে এই ব্যাতিক্রমধর্মী সংগঠন “ইচ্ছে”

‘ইচ্ছে’ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি সমাজ সেবা মূলক সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি সমাজ সেবা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান,সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বয়স্ক শিক্ষা,শীতবস্ত্র বিতরণ, সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ,পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পালন করে এই ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন ‘ইচ্ছে’।

শিশু অধিকার এবং সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করতে সেচ্ছায় মেধা, শ্রম ও মূলবান সময় দিয়ে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনে কর্তব্যরত একঝাঁক নিবেদিত প্রাণ।

তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সামনে গড়ে উঠেছে ‘ইচ্ছে স্কুল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
যেখানে প্রতিদিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করে থাকেন সংগঠনের কর্মীবৃন্দ।

যে শিশু গুলো এক সময় ক্যাম্পাসে ভিক্ষাবৃত্তি ও চুরি পেশায় লিপ্ত ছিল। ‘ইচ্ছে’ সংগঠনের কর্মীবৃন্দ তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে শিক্ষার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।এছাড়াও শিশুদের আনুষঙ্গিক প্রায় সকল চাহিদা সংগঠনটি পূরণ করে আসছে। শুধু তাই নয়, সংগঠনটি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি সাফল্যের সাথে
পালন করছে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে! সংগঠনটির এতসব কার্যক্রম সম্পাদন করলেও, কার্য সম্পাদনে কোন কর্মীর থেকে কোন ধরনের চাঁদা গ্রহণ করে না।

এখন প্রশ্ন হতেই পারে, তবে সংগঠন পরিচালিত হয় কিভাবে? এই অর্থও আসে সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ কর্মীবৃন্দের মেধা আর পরিশ্রমের ফলে।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে নিয়মিত কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট নিউজ ও বিভিন্ন সাময়িকী বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন উৎসবে ফুলের স্টল ও আলপানা অঙ্কন করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংগঠনটি সাফল্যের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে।

তারা বিশ্বাস করে, সংগঠনের প্রত্যেকটা কর্মীর ইচ্ছে গুলো একেকটি ডানার মতো।
যে ডানায় ভর দিয়ে সকল বাঁধন ছিন্ন করে আপন শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রত্যেকটি কর্মী। তাই সংগঠনটির কর্মীদের বলা হয় ‘ইচ্ছে ডানা’।

‘ইচ্ছে’ সংগঠনের সভাপতি মাহাদী হোসাইন বলেন, আমরা চাই সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ সুবিধা প্রাপ্ত হোক। কেউ যেন বঞ্চিত না হয়। আমরা স্বপ্ন দেখি
ক্ষুধা, অপশিক্ষা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ার।

যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ ভোগ করবে সমান অধিকার ও শিশুদের শৈশব হয়ে উঠবে হাসি ও আনন্দের। শিশু সুশিক্ষায় শিক্ষত হয়ে গড়ে তুলবে একটি মানবিক জাতি। গড়বে সোনার বাংলাদেশ।