কফি হাউজের সে আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

করোনার আঘাতে সারাবিশ্ব আজ লন্ডভন্ড। স্বাভাবিক সবকিছু অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। ভাইরাস হ্যাঁ কে না করেছে আবার না কে হ্যাঁ করছে। সকল ক্ষেত্রে সীমিত আকার।

আমরা জানি মানুষ সামাজিক জীব। হে করোনা! তোমার কারণে আজ মানুষ সামাজিক দূরত্বে অবস্হান নিয়েছে। কি মর্মান্তিক অবস্হা। একের সাথে অপরের দেখা হলে সম্ভাষণের মাধ্যম ছিল হাত মোছাফা ও কোলাকুলি।

আজ তা ” না “। অফিস- আদালত চলছে ভার্চুয়ালী। শিক্ষাদান চলছে ফেস টু ফেস এর পরিবর্তে অনলাইন ভিত্তিক। আমাদের মহান জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও ব্যতিক্রম আনা হয়েছে।সবকিছুতেই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

বাসায় বসে টকসো চলছে।আদেশ নির্দেশ প্রদান চলছে অনলাইনে। বদলে দাও,বদলে যাও এই মানসিকতা মানুষের মধ্যে এখন কাজ করছে। কিন্তু তারপরও সাধারণ অনেক মানুষ এখনও বদলাতে পারেনি।

হাট- বাজার,রাস্তাঘাটে, ব্যাংকে এখনও মানুষের ঢল।মানছে না সামাজিক দূরত্ব, পরছে না মাস্ক। মনে হচ্ছে তাকে করোনা আক্রমণ করবেই না।দেশে করোনা ভাইরাস বলতে কিছুই নেই, ভাবটা এমন।

আমি এখানে মান্না দে’ র একটি গানের কলি উল্লেখ করেছি।মান্না দে’ র গানটি বর্তমানের জন্য সঠিক। কিন্তু বাংলাদেশের অলিগলি দেখলে গানটির যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায় না। পুলিশ – আর্মি দিয়াও বাংলার অলিগলির কফি হাউজের আড্ডাখানা বন্ধ করা যাচ্ছে না। মানুষ যেন চেতনাহীন, অথচ মৃত্যুর মিছিল ধীরে ধীরে লম্বা হচ্ছে। যারা অহেতুক ঘুরাঘুরি করছে তারা মনে করেছে তারা মৃত্যুকে জয় করে ফেলেছে।

মহাভারতের গল্পে যক্ষ যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে যুধিষ্ঠির, এ পৃথিবীর সবচাইতে আশ্চর্য বিষয় কী?
যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, এই যে প্রতিদিন এত লোক মৃত্যুবরণ করে,তাও মানুষ এমনভাবে চলাফেরা করে যেন তার মৃত্যু হবে না হাজার বছরেও ——— এটাই সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার।

তাই সময় থাকতে ঘরে থাকি, সুস্হ্য থাকি, অন্যকে সুস্হ্য রাখি।
ঘরের বাহিরে গেলে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখি,মুখে মাস্ক পরি।

আল্লাহ আমাদেরকে করোনামুক্ত রাখুন।সরকারি স্বাস্হবিধি মেনে চলি।

-বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ।