কম্পিউটার চুরি ও শিক্ষকদের হুমকির ঘটনায় শিক্ষকদের বিবৃতি


বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরি এবং উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটিত সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।

রবিবার (৩০ আগস্ট) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. হাসিবুর রহমান ও সম্পাদক মোঃ রকিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ বিবৃতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বিবৃতিতে বলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভব ও বিকাশ মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হলো এর প্রাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বকীয়তা, জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গৌরবময় ভূমিকা তাদেরকে একটি অনিবার্য স্বত্বায় রুপান্তরিত করেছে।

শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ বাধামুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের নিয়োগ দেন শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে। এভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিবিড় জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এখানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সহায়ক শক্তি, কোনোভাবেই পরিপূরক বা প্রতিপক্ষ নয়।

সম্প্রতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরী ভবন থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরি এবং উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ঘটে যাওয়া সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও অত্যন্ত তড়িৎ গতিতে এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ৭ জন অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

তদন্ত কমিটি থেকে একজনকে অব্যাহতি, পদত্যাগ, রদবদল, একজন অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্যর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হওয়া বক্তব্য রেজিস্ট্রার অফিসে দাখিল হওয়া নথিপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাইরাল হওয়া প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদলিপি আমাদের নজরে এসেছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শুরু হতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে শিক্ষক সমিতি অতি নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে।

বিবৃতিতে শিক্ষকদের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক সমিতি মনে করে ব্যক্তির দায় ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, ডিন, আইন অনুষদ, প্রফেসর ড. আব্দুর রহিম খান, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ এবং ড. মোঃ রাজিউব রহমান, সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগকে জনাব নজরুল ইসলাম কর্তৃক ভয়-ভীতি প্রদর্শন প্রদর্শন ও দেখে নেয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্টে তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৯ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করেছে এবং ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে মাসরুল ইসলাম পনি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী।

আর এই শিক্ষার্থীকে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য সুপারিশ করেছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়া উক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের সময়েও পনির সাথে ছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম। এজন্য উক্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে শিক্ষকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

দুরন্ত/৩০আগস্ট/পিডি