করিমগঞ্জের গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারী হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী আব্দুর রহমান আমিনকে হত্যা ও ডাকাতির চাঞ্চল্যকর মামলায় ২ ভাইসহ চার জনকে ফাঁসি এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককেই ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আসামিদের উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৪ আসামি সাত্তার,লিটন,নজরুল এবং কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কান্তু মিয়া,সাহেদ,খোকন এবং সিরাজ উদ্দিন ওরফে সিরাজ এই ৪ জনকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রদান করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ৮ জনের মধ্যে সাহেদ ছাড়া বাকি ৭ জনই করিমগঞ্জের সিংগুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত নজরুল ও কাসেম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সিরাজ এই ৩ জন আপন ভাই। তাদের পিতার নাম মৃত আব্দুল কাদির। আর সাহেদ উপজেলার হাসনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক তদারক সহকারী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কালোপানি বজরা গ্রামের আব্দুর রহমান আমিন চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিংগুয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ির এলাকায় জায়গাজমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।

২০০৬ সালের ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা তার বাড়িতে ডাকাতি করলে গেলে তিনি তাতে বাধা দেন। বাধা পেয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহমান আমিনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময় আব্দুর রহমান আমিনের স্ত্রীও ঐ সময় আহত হন।

এ ঘটনায় পরদিন ২৩ এপ্রিল মৃত আব্দুর রহমান আমিনের স্ত্রী নূরুন নাহার ওরফে রাবেয়া বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে সিআইডির এএসপি রফিকুল ইসলাম ৮ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ ইমাম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।