করোনা দীর্ঘদিন থাকলে বেকারত্ব বাড়বে, আয় কমবে

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

প্রতিবছর যেভাবে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে সেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।শুনা যাচ্ছে এ অর্থবছরে আরও প্রায় ১৪ লাখ বেকার সৃষ্টি হবে।করোনার কারণে এমনিতে পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হুংকার আসছে।বিদেশ থেকে কর্ম হারিয়ে যোগ দিবে আরও হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সরকার একা বেকারত্ব হ্রাস করতে পারবে না।এজন্য প্রয়োজন সরকারি – বেসরকারী সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। এদিকে করোনার কারণে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী হ্রাসের পরিকল্পনা করছে।ফলে দেশে চরমভাবে কর্মহীনতা বাড়বে।

আইএলএ- আঞ্চলিক কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রতিবেদন পেশ করে তাতে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশী। যেমন:

১ ম পাকিস্তান: ১৬.৮ শতাংশ
২ য় বাংলাদেশ: ১০.৭ শতাংশ
৩ য় ভারত: ৮.৪ শতাংশ
৪ র্থ শ্রীলঙ্কা: ৭.৯ শতাংশ
৫ ম ব্রুনাই: ৭.৫ শতাংশ
৬ ষ্ঠ ফিলিপাইন: ৭.৫ শতাংশ
৭ ম ইরান: ৭.৪ শতাংশ
৮ ম মঙ্গোলিয়া: ৭.০ শতাংশ
৯ ম লাওস: ৬.৯ শতাংশ
১০ ম ফিজি: ৫.১ শতাংশ

বাংলাদেশের বেকারদের ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:

প্রাথমিক শিক্ষায বেকারত্বের হার: ৩.৫ শতাংশ
মাধ্যমিক পর্যায়: ৮.০ শতাংশ
উচ্চ শিক্ষিতের মধ্যে বেকার: ১০.৭ শতাংশ।

বাংলাদেশের তরুণদের বড় অংশ আবার নিষ্ক্রিয়। তারা কোন রকমের শিক্ষায় যুক্ত নন,প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না,আবার কাজও খুঁজছেন না।দেশে এমন তরুণের সংখ্যা ২৭.৪ শতাংশ।

অপরদিকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা পড়েছে বিপাকে। অনেকে বাড়িতে চলে আসলেও তাদের মেছ ভাড়া দিতে হচ্ছে। পড়ুয়াদের মধ্যে এদের সংখ্যাই বেশি। এরাও বেকারদের মধ্যে পড়ে। সরকারকে এদের কথাও চিন্তা করতে হবে।আবার যখন খুলবে দেখা যাবে তারা আগের টিউশনি হারিয়ে ফেলবে।কারণ অনেক অভিভাবক হয় কর্মহীন হয়ে পড়বে, না হয় অনেকের আয় কমে যাবে। অভিভাবকদের কর্মহীন বা আয় কমে গেলে টিউশনি যারা করে তারা বেকারত্ব বরণ করতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশেষে এরাও বেকারের তালিকায় নাম লেখাবে।অন্যদিকে করোনার কারণে নিয়োগ বিঞ্জপ্তি না থাকাতে অনেকে সরকারি চাকরির বয়স হারাতে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় সরকারি – বেসরকারি পর্যায়ে এরকম বেকারদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।
পরিবেশ – পরিস্থিতি, অর্থের জোগান,অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকির মধ্যে না যেয়ে বেশির ভাগ তরুণ অন্যের তৈরীকৃত কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।
তাই বেকার তরুণদের বেকারত্ব ঘোঁচানোর জন্য কিছু দেশপ্রেমিক শিল্পপতি এগিয়ে এসে শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পারেন।আশাকরি এবারের বাজেটেও বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হবে।
বেকারত্ব হ্রাস পাওয়া মানে দেশ এগিয়ে যাওয়া, জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়া।এরই মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা গড়া যাবে।

সরকারী পর্যায়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে অশিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে শ্রেণীভেদ অনুযায়ী তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিরুপণ করে তাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরী করা যায়। আশাকরি সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে জাতিকে একটি বেকারমুক্ত সমাজ উপহার দিবেন।এজন্য প্রথমে সরকারী বা বেসরকারি পর্যায়ে পাইলটিং প্রোগ্রাম নেয়া যায়।

লেখকঃশিক্ষাবিদ ও গবেষক।

দুরন্ত/৩নভেম্বর/আইডি