করোনা মৌসুমে সুন্দরবনে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

আব্দুর রাজ্জাক রাজ,মোংলা প্রতিনিধি:

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমণের কারনে সুন্দরবনে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় অনেকটাই কোলাহল মুক্ত ছিল সুন্দরবন। এসময় বনবিভাগের কঠোর নজরদারির কারনে বণ্যপ্রাণী শিকারীদের উৎপাত কিছুটা কমেছে।

মাঝে মধ্যে হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটলেও অল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে পুরো বনকে সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বনবিভাগ।সবমিলিয়ে গত ৫ মাস ধরে সুন্দর পরিবেশ নিয়েই আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে সুন্দরবন।বাড়ছে গাছপালা।

সেই সাথে বেড়েছে বণ্যপ্রাণীদের কোলাহল। সুন্দরবনের আকাশে ডানা মেলে উড়ছে নানা প্রজাতির পাখি।জনমানব শূন্য সুন্দরবন এখন নতুন অবয়ব ধারন করেছে।সেই সাথে বেড়েছে মৌমাছির আবাসস্থল।

বেড়েছে মধু ও মোমের উৎপাদন।সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে গেল বছরের থেকে প্রায় ৫০০ কুইন্টাল মধু এবং ১৩৭ কুইন্টাল মোম বেশি উৎপাদন হয়েছে।সুন্দরবনে মধু ও মোমের উৎপাদন বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন গবেষক, সুন্দরবনজীবী,মৌয়াল ও বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে এক হাজার ২২০ কুইন্টাল মধু আহরণ করেছেন মৌয়ালরা। যা ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মধুর উৎপাদন ছিল ৭৪২ কুইন্টাল। অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে গেল বছরের থেকে ৪৭৮ কুইন্টাল মধু বেশি উৎপাদিত হয়েছে। এরআগে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৪৮৮ কুইন্টাল মধু উৎপাদন হয়েছিল।
২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাজস্বের পরিমাণও বেড়েছে অনেক।

এই অর্থবছরে মধু থেকে রাজস্ব এসেছে নয় লাখ ১৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব ছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮০ টাকা মাত্র।

এদিকে,মধুর উৎপাদনের সঙ্গে মোমেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এ বছর। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে ৩৬৬ কুইন্টাল মোম উৎপাদন হয়েছে।এই থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৫০ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোমের উৎপাদন ছিল ২২৯ কুইন্টাল এবং রাজস্ব ছিল দুই লাখ ২৯ হাজার ৬০০ টাকা। ২০১৭-১৮ বছরে মোমের উৎপাদন ছিল মাত্র ১৫৮ কুইন্টাল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫৩ টাকা।

বনবিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,করোনা পরিস্থিতির কারনে সবকিছুতেই একটা নতুনের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের। নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ বন।গত কয়েক মাসে জনসাধারনের প্রবেশাধিকার না থাকায় বণ্যপ্রাণীরা যেমন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারছে তেমনি মৌমাছির আবাসস্থল বেড়েছে কয়েকগুন। বেড়েছে মধুর উৎপাদন। এতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৌয়ালরাও দারুন খুশি।