‘কলড্রপ আমার জীবন বদলে দিয়েছে’

বিনোদন প্রতিবেদক:

যখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছি, তখন থেকেই ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিলাম। প্রতিদিন নানা পোজে সেলফি বা ছবি পোস্ট না করলে যেন আমার চলতই না। তা দেখে ফ্যাশন হাউস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড তাদের একটি পোশাকের মডেল হওয়ার জন্য খুব করে ধরে। রাজি হয়ে যাই। এরপর মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! এমন কথা বলেন মডেল অভিনেত্রী শাহ্‌তাজ মুনিরা হাশেম।

ছবিটি কীভাবে যেন হাফ স্টপ ডাউনের আশফাক-উজ-জামান বিপুলের হাতে পড়ে। তিনি ফোন করে অ্যালপেন লিভে জাস্ট জেলির একটি টিভিসিতে মডেল হওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি কিছু না ভেবে স্রেফ মজার জন্যই রাজি হয়ে গেলাম। কাজটি প্রচারের পর ভালো সাড়া পেয়েছি। সময়টা ২০১৪ সালের মার্চের দিকে।

এরপরই মোবাইল ফোন বাংলালিংক থেকে যোগাযোগ করা হয় তাদের কলড্রপের টিভিসির মডেল হওয়ার জন্য। প্রথম কাজের মতো সবার উৎসাহে এ কাজটাও করি। এর পরের ঘটনা তো সবার জানা। সেই বিজ্ঞাপনে ঝগড়াটে মেয়ে হয়ে এতটাই পরিচিতি পেয়ে যাই যে, রাস্তাঘাটে অনেকেই আমাকে দেখে বাঁকা মন্তব্য করেন।

এই টিভিসি করার পর অনেকেই আমাকে ‘কুচিপুচি’ বলে ডাকত। কারণ, বিজ্ঞাপনটিতে আমি আমার বয়ফ্রেন্ডকে এই নামে ডাকতাম। সে সময় যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই আমাকে উদ্দেশ করে অনেকে মুচকি হেসে বলত, ‘হ্যালো কুচিপুচি, কী করছ?’ বিজ্ঞাপনটির দৃশ্যধারণের সময়ও অনেক মজার ঘটনা ঘটেছে।

২০১৪ সালের আগস্টে এর শুটিং হয় তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কোক স্টুডিওতে। নির্দেশনা দিয়েছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এর আগে তার নাম শুধু অন্যদের কাছে শুনেছি। যখন শুনলাম বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করবেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ভয়ে পুরোপুরি চুপসে গেলাম। মা আমাকে সাহস জোগালেন। একদিন মাকে নিয়ে ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমাকে অভয় দেন। এরপর ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের সেটে অনেক মজা করেছি।

২০১৫ সালে ভালোবাসা দিবসে প্রচার হয় আমার অভিনীত প্রথম নাটক ‘চিনিগুঁড়া প্রেম’। তাহসান খানের বিপরীতে সে নাটকটিতেও ভালো সাড়া পাই। তারপর একের পর এক বিজ্ঞাপনচিত্র, নাটক, ওয়েব সিরিজে কাজ করে চলেছি। তবে সত্যি বলতে, কলড্রপের বিজ্ঞাপনই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখন নতুন কোনো বিজ্ঞাপনে কাজের প্রস্তাব এলে প্রথমেই ভাবি গল্প নিয়ে। আমি সংখ্যায় নয়, মানে বিশ্বাসী।

আমার মা বলেন, আমি নাকি ছোটবেলায় অন্য বাচ্চাদের চেয়ে আলাদা ছিলাম। কারও সঙ্গে মিশতাম না। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়ে থাকতাম। ভাবুক মন ছিল আমার। এখনও হঠাৎ হঠাৎ মন কোথায় যে চলে যায়, বুঝতে পারি না। আসলে ছোটবেলাটা একাই কেটেছে আমার। কার্টুন দেখতাম শুধু। টম ও জেরির সঙ্গেই খেলতাম আর হাসতাম। এখনও আমার অ্যানিমেশন মুভিই বেশি ভালো লাগে। কার্টুন দেখে আরেকটা উপকার হয়েছে, আঁকাআঁকিতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বলেছেন, নিজের মতো চালিয়ে যেতে। আমি নারীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলি ছবিতে। আমার ভালো লাগে নতুন নতুন গান শুনতে। টেইলর সুইফট অনেক শুনি। এখনও কোনো কাজ হাতে নেওয়ার আগে আমি সময়টা দেখি। যেগুলোয় সময় কম লাগবে সেগুলোতে রাজি হই। পার্লারে বেশি যাই না। ভাত খেতে ভালো লাগে না। ইদানীং ফিটনেসে মনোযোগী হয়েছি। জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের মতো হতে পারলে ভালো হয়। কাজ বুঝে-শুনে কম করলেই ভালো। নিজের জন্য আমার অনেক সময় দরকার।

দুরন্ত/২৩অক্টোবর/ডিপি