‘কারাগারে জিয়ার আমলে প্রতিরাতে ৮-১০ জনের ফাঁসি হতো’

বিশেষ প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিরাতে আটটা দশটা করে ফাঁসি হতো। তাদের চিৎকারে কারাগারের আশপাশের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠত। এমন দিন নেই যে জিয়াউর রহমানের হাতে মানুষের মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তারা সারাদেশে একটা খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

রবিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সকল শহীদের স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভায় অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন। এদেশকে মাত্র ৯ মাসে তিনি একটি সংবিধান উপহার দেন। এই দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুমোদন লাভ করেন। ১২৬টা দেশ স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে। জাতিসংঘ, ওআইসি ও কমনওয়েলথ-প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে আমরা সদস্যপদ পাই। এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো দেশ এত অর্জন করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এত কিছুর পরেও কিছু লোক বলেছে কোনো কিছুই হয়নি। শেখ মুজিব কোনো উন্নয়ন করেনি। কোনো কিছুই হয়নি সেই কথা বলা, লেখা এবং তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে।’

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশ্ন করে বলেন, ‘কেন, কোন উদ্দেশ্য, কী কারণে তার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র? তার ফলাফল কী হয়েছিল? অনেকে গণতন্ত্রের কথা বলে মাশাল্লাহ অর্ডিন্যান্স দিয়ে সংবিধান স্থগিত করে, সংবিধান লংঘন করে। যখন কেউ ক্ষমতা দখল করে তারা গণতন্ত্র দেয় কীভাবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আমাদের পার্টির কত লোকজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। ছাত্রলীগের মহানগরের নেতা মফিজ বাবুর লাশ তার আত্মীয়-স্বজন পায়নি। এমনিভাবে চট্টগ্রামে নুর মোহাম্মদ, বগুড়ার পটলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমনিভাবে অগণিত নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, পরিবারগুলো তাদের লাশও পায়নি।’

দুরন্ত/৩০আগস্ট/পিডি