কুয়াকাটায় রেডর্ক সংখ্যক পর্যটকের আগমন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

শীতের রেশ কাটতে না কাটতেই পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত পর্যটকে ঢাসা থাকে কুয়াকাটার বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলো।

পর্যটকের আগমনে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় খাবার হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং ঝিনুক মার্কেট, শুটকি মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেচা-বিক্রি দিগুনেরও বেশি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘ-রুদ্দুরে প্রকৃতির মাঝেও সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকনের জন্য কুয়াকাটা সৈকতের দীর্ঘ আড়াই কিলোমিটার জুড়ে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। সৈকত সংলগ্ন লেম্পুচর, ঝাউবন, গঙ্গামতি-কাউয়ারচর, মিশ্রিপাড়া বৈদ্ধ মন্দির, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী কুপসহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এহতেশাম জানান, এখন না শীত না গরম। এই প্রকৃতির মাঝে কুয়াকাটার সৌন্দর্য্য আমাদের আকৃষ্ট করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সে কারণেই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পরিবারের অন্তত ১৫ সদস্য নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে কুয়াকাটা অবস্থান করছি। কুয়াকাটাকে মনে হয়েছে বিশ্বের অদ্বিতীয় একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে ভান্ডার।

উত্তরবঙ্গ সিলেট থেকে আসা পর্যটক মৌসুমী আক্তার বলেন, আমরা যদি কুয়াকাটায় না আসতাম তা হলে বাস্তবিক এবং কৃত্তিম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম না। এমনকি এই কুয়াকাটার সৈকতের কোথাও কোনো চোরাবালির অস্তিত্ব নেই। সৈকত থেকে সমুদ্রের প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমি আমার পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে চারদিন কুয়াকাটায় অবস্থান করছি। এসেছিলাম মাত্র দুই দিন থাকার উদ্দেশ্যে। এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ এবং আধিবাসীদের জীবন জীবিকাসহ স্থানীয়দের অতিথি আপ্যায়ন পরায়নতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাই ইচ্ছে করে এখানেই থেকে যেতে।

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এক সপ্তাহ আগ থেকে কুয়াকাটার তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্টগুলো বুকিং হয়ে যাচ্ছে বলে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওহিদুজ্জামান সোহেল নিশ্চিত করেছেন।

কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক রিসোর্ট মালিক রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, এবছর প্রতি সপ্তাহের তিন দিন তার সবগুলো রিসোর্ট বুকিং হয়ে থাকছে।

আবাসিক হোটেল ‘কানসাই ইন’ এর চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের হোটেল বাণিজ্যে ধস নেমেছিল। গত এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে পর্যটকের আগমণ ঘটছে রেকর্ড সংখ্যক। তাই এক সপ্তাহ আগ থেকেই হোটেলের সকল রুম বুকিং হয়ে যায়। সে সুবাদে আমাদের বিগত দিনের ব্যবসায়িক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। আগামী মাসেই কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী ‘বিচ কার্নিভাল’ অনুষ্ঠিত হবে। সে উপলক্ষে ইতোমধ্যেই হোটেলের সিট বুকিং শুরু হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে।

দুরন্ত/৬মার্চ/পিডি/এসএম