‘কোটি টাকা ব্যবসায় হারিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন খায়রুল’

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা:

খায়রুল ইসলাম সোহাগ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কলচমা গ্রামের মালের বাড়ির মৃত সিরাজ মালের সেঝ ছেলে। এ ছাড়া তিনি ২০১৫ সনের রামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

বুধবার রাতে ঢাকার মগবাজারের নয়াটোলার ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে বাবা খায়রুল ইসলাম সোহাগ মাল (৫৫) ও পাশের কক্ষ থেকে একইভাবে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেলে শাহরাব হোসেন ওরফে আরিয়ানের (১৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও মৃত খায়রুল ইসলাম সোহাগের চাচাতো ভাই লিটন মাল জানান, ‘তার জ্যাঠাতো ভাই সোহাগ মাল দীর্ঘদিন ঢাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে সোহাগ মাল ছিলেন সেজ। ঢাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। তার ছোট ভাই নুরনবী জিসান সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মনির হোসেন নামের আরেক ভাই ঢাকার তেজগাঁও কলেজের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন’।

চাচাতো ভাই কাউসার মাল জানান, ‘শেয়ার বাজারে তার বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরও সুস্থ হচ্ছিলেন না। এ ছাড়া তার একমাত্র ছেলে আরিয়ান ছিলেন অটিস্টিক’।

তিনি বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একটি অটিস্টিক ছেলে কীভাবে ফাঁসি দিল’?

বুধবার রাতে ১৮১/ডি নয়াটোলায় পঞ্চম তলার বাসা থেকে বাবা-ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে জানান তাদের নিকটাত্মীয়রা। খায়রুল ইসলাম সোহাগ ও তার একমাত্র ছেলে আরিয়ানের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত মেজ ভাই মো. হারুন অর রশিদ ছোট ভাই ও ভাতিজার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বামী খায়রুল ইসলাম সোহাগ মাল ও ছেলে শাহরাব হোসেন আরিয়ানকে বাসায় রেখে স্ত্রী নাজমুন নাহার বাজার করতে যান। বেলা আড়াইটার দিকে বাসায় ফিরে কলিং বেল বারবার টিপেও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তিনি দরজা ধাক্কাধাক্কি করে চিৎকার দিতে থাকেন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ হোসেন পাঁচতলায় ছুটে আসেন। সেখানে গিয়ে প্রতিবেশী বাসিন্দাদের ভিড় দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, এ সময় নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ হোসেনের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলতেই দেখেন ড্রয়িং রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় খায়রুল ইসলাম সোহাগের লাশ ঝুলছে। খোঁজ নিয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে দেখেন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে একমাত্র ছেলে শাহরাব আরিয়ানের লাশ।

পরে সোহাগ মালের স্ত্রী প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সিলিং ফ্যান থেকে বাবা-ছেলের নিস্তেজ শরীর নামিয়ে আনেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা হাতিরঝিল থানা পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নেয়া হয়েছে।

দুরন্ত/১৩নভেম্বর/পিডি