খুলনায় লকডাউনে বিপর্যস্ত জনজীবন

ঋতু দে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

কাইল আমরা মাছ দিয়া ভাত খামু।দোকান থেইকা ইয়া বড় এক্কান মাছ আনমু। খুলনা মহসীন মোড় রেললাইনের ধারে ঝুপড়ি ঘরে বসে স্বামীহারা গৃহকর্মী শিল্পী তার ছোট শিশু কন্যাকে বোঝাচ্ছেন যেন সে আজ পান্তাটুকু খেয়ে নেয়।

আজ কয়েক দিন ধরে তারা শুকনো মুড়ি কখনো বা পান্তা কখনো বা না খেয়েই দিন পার করছে।তবে এই কয়দিন কোনমতে বুঝ দেওয়া গেলেও আজ ছোট্ট স্বরসতীকে কোন মতেই বোঝাতে পারছে না তার মা। কিছুতেই মাছ ছাড়া ভাত খাবে না সে।

এদিকে মাছ তো দূরে থাক কাল ভাত কোথায় পাবে সে কথা ভাবতেই শিল্পীর কপালের ভাজ আরও গভীর হয়ে উঠল।

এমনই দীর্ঘশ্বাস ফেলা চিত্র এখন আমাদের চারপাশে অহরহ দৃশ্যমান।বাবা মায়েরা না খেয়ে নানা অজুহাতে সামান্য খাবারটুকু তুলে দিচ্ছেন সন্তানের মুখে । আর এমন ছোট্ট স্বরসতীরা আগমী দিন তৃপ্তি করে খাবার আশায় রোজ খেয়ে না খেয়েই দিন পার করছে।

লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের অধিকাংশ পেশাজীবি মানুষ। রোজা রেখে ঠিকমত ইফতারি ও করতে পারছে না খাদ্যের অভাবে।

রেললাইন ধরে একটু সামনে এগোতেই এমন আরেক চিত্র চোখে পড়ল।দিন মজুর এক পরিবার তারাও আজ সামান্য মুড়ি খেয়ে ইফতার করেছে। তবে সেহেরিতে না খেয়েই তাদের পরের দিনের রোজা রাখতে হবে।

অসহায় মানুষগুলো এভাবেই খালি পেটে শুধু লকডাউন নয় রোজাও পার করে চলছে । ঈদ নিয়ে নেই তাদের আনন্দ নেই কোন উচ্ছ্বাস। মানুষগুলোকে প্রতিদিন সাহায্যের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয়।

কখনো হয়তো কিছু পায় কখনো আবার তাও জোটে না।তবে যতটুকু পায় তা তাদের অভাব মেটাতে অপ্রতুল।কেউ কেউ দিনের পর দিন এমন অভুক্ত থেকেই রাখছেন রোজা সাথে কাটাচ্ছেন লকডাউন।

লকডাউনে গরীব মানুষদের জীবন আরও মানবেতর হয়ে উঠেছে। না তারা কিছু খেতে পাচ্ছে, না তারা ঘর ভাড়া দিতে পারছে,না তারা ইফতারি করতে পারছে।

মহামারী মোকাবিলার উদ্দেশ্যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে বটে তবে তার পাশাপাশি এই দুঃস্থ মানুষগুলোর খাদ্য সমস্যার সমাধান করাটাও অনেক বেশি জরুরি। সরকারি বা বেসরকারি অথবা বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষঠান যেসব সাহায্য দিয়েছে তা এই খাদ্যাভাব মেটাতে পারে নি।

একটি বৃহৎ ও স্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। সব দুস্থ, গৃহহীন মানুষদের এ প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে যাতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। নয়তো এই মানুষগুলো মহামারী নয় খাদ্য সংকটেই মৃত্যুবরণ করবে।