চট্টগ্রামের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের হালচাল

সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান:

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে প্রতিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ৩ জন থেকে ১০ জনের উপরে। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দেখা যাচ্ছে সীতাকুণ্ড পৌরসভায়। এই পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ১০ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির প্রার্থী কারা এখনো জানা যায়নি। তাদের কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়ছে না।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, সামনের ডিসেম্বরে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভা গুলোর নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা আসলে তবেই মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

চট্টগ্রাম জেলার সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর তালিকা তৈরি করে ঢাকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। যেসব পৌরসভায় ভোট হবে সেসব পৌরসভা গুলোর ভোট কেন্দ্রের ডাটাও চাওয়া হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদসহ চট্টগ্রামে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে উপ নির্বাচনের পরপরই চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে খবর নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রায় পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা নিজেরাই–নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছেন। ইতোমধ্যে সীতাকুণ্ড, পটিয়া, চন্দনাইশসহ বেশ কয়েকটি পৌরসভায় একাধিক প্রার্থী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেকে পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এদিকে আগামী ২০ অক্টোবর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদসহ চট্টগ্রামে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুরকদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই উপজেলার উপ নির্বাচনে আর কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।

চট্টগ্রামে ১৫ পৌরসভার মধ্যে পটিয়া পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, বাঁশখালী পৌরসভা, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, মীরসরাই, বারৈয়ারহাট, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান এবং নতুন ভাবে ঘোষিত দোহাজারী পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলায় মামলার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেনা।

এদিকে ২০১২ সালে হাটহাজারী পৌরসভা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সীমানা বিরোধ নিয়ে গত ৮ বছরেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়াদপূর্ণ হয়েছে প্রায় ১ বছরের মতো। কিন্তু মামলার কারণে এই পৌরসভায় ঠিক সময়ে নির্বাচন হয়নি।

এখন নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের ৪ জন প্রার্থী এলাকায় সরব হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগেরসহ সভাপতি রেজাউল করিম বাবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মো. ওয়াসীমুল হক, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আলম।