জয়কে সাতদিনের আলটিমেটাম, নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে মামলা

বিনোদন প্রতিবেদক:

অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ওপর প্রচণ্ড ক্ষেপেছেন ঢাকাই ছবির প্রয়াত সুপারস্টার নায়ক মান্নার স্ত্রী বিমানবালা শেলী মান্না। সম্প্রতি ‘জীবনের গল্প’ নামে একটি অনুষ্ঠানে বিমানের কেবিন ক্রুদের নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করায় জয়ের ওপর বিমানবালা শেলী ক্ষুব্ধ হন।

এমনকি আগামী সাতদিনের মধ্যে আপত্তিকর প্রশ্নে জয় নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করবেন বলে জানান শেলী মান্না।

শেলী বলেন, ‘একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন বিমানের সাবেক ক্যাপ্টেন মোশতাক। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ছিলেন জয়। অ্যাভিয়েশন নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছেন।

তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু অপ্রাসঙ্গিকভাবে বিমানের কেবিন ক্রুদের সঙ্গে ক্যাপ্টেনদের প্রণয় ঘটিত ব্যাপার থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে জিনিসপত্র দেশে এনে বিক্রি করার মতো বেশকিছু সম্মানহানীকর প্রশ্ন করেছেন জয়। যা একজন বিমানবালার ইনচার্জ হিসেবে আমার সম্মানহানী হয়েছে।’

জয়ের উদ্দেশে শেলী বলেন, ‘অ্যাভিয়েশন সম্পর্কে জানতে হলে অনেক পড়াশোনা করতে হয়। বিমানের কেবিন ক্রুর হতে হলেও ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। তাই তাদেরকে নিয়ে কথা বলতে হলে আপনারও পড়াশোনা করতে হবে।

কেবিন ক্রুদের সারা বছর পড়াশোনা, ট্রেনিং ও ব্রিফিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। সবমিলিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্য দশজনের থেকে আলাদা। কেবিন ক্রুদের জীবনযাপনে প্রচণ্ড সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনের বাইরে কাজ করার কোনো বিধান এখানে নেই।

কেবিন ক্রুরা পেশাগত কারণে নিদ্রাহীনভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির জীবন নিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসকে নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমনকি প্রিয়জনের অসুস্থতা ও মৃত্যুর সময়ে পাশে থাকতে পারেন না। এমন একটি সম্মানজনক ও রিস্কি পেশার সম্প্রদায়কে আপনি কোন যুক্তিতে ও কোন সাহসে অবমাননা করলেন?

আপনার ধারণা থাকা উচিত যে, মানুষের কথায়, প্রশ্নে, যুক্তিতে, আচার-ব্যবহারে এবং চিন্তা-ভাবনায় একটি শালীনতা ও সীমারেখা থাকা উচিত। কোনো অবস্থাতেই সীমা লঙ্ঘনকারীকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।’

এ বিষয়ে শেলী বলেন, ‘আপনি এ দেশের শিল্পীসমাজকেও চরমভাবে হেয় করেছেন। যারা এ দেশের সাংস্কৃতিক জগৎকে সমৃদ্ধ করে এ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদেরও আপনার অনুষ্ঠানে অশালীন প্রশ্নে জর্জরিত করেছেন। মৌসুমী-শাবনূর থেকে শুরু করে শিল্পী সমিতিকেও ন্যূনতম সম্মান দেখাননি। অথচ আপনি একজন শিল্পী! ভাবতেও অবাক লাগে। আমরা অত্যন্ত রক্ষণশীল সমাজে বাস করি। তাই এ ব্যাপারে আপনার প্রচণ্ড সৌজন্যবোধ ও সীমারেখা থাকা উচিত ছিল।’

বিষয়টি জানতে অভিনেতা জয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।