টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির প্রভাবে বাগেরহাটে ব্যাপক ক্ষতি

সাকিব হাওলাদার, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির প্রভাবে ভেসে গেছে বাগেরহাটের পাঁচহাজার চিংড়ি ঘের। এতে চিংড়ি চাষীদেরও ব্যাপক ¶তিহয়েছে। পুঁজিহারিয়ে নিঃ¯^ হয়ে পড়েছেন অনেকচাষী। টাকার অংকে ¶তির পরিমাণএখন ও জানাতেনাপারলেও চাষিদের ক্ষতি পোষাতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন মনে করছেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

জেলা মৎস্য বিভাগ এই প্রতিবেদককে জানায়, অতিবৃষ্টি ও ভরা মৌসুমে জোয়ারের পানি কয়েকফুট বেড়ে লোকালয়ে প্রবেশকরেছে। এর ফলে জেলার বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, চিতলমারী এই ৬ উপজেলার প্রায় ৫ হাজারমৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এতে চাষিদেও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মোংলা ও মোরেলগঞ্জে।

মোংলায় এক হাজার ৭৬৫ এবং মোরেলগঞ্জে ২ হাজার ২৬৫ ঘের ডুবেছে জোয়ারের পানিতে। সরকারি হিসেবে আম্পানের আঘাতে বাগেরহাট জেলায় চারহাজার ৬৩৫টি মৎস্য ঘের তলিয়ে চাষিদের দুই কোটি ৯০ লাখটাকার ক্ষতি হয়েছিল। এসময়ও চাষিরা ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি দাবি করেছিলেন। জোয়ারের পানিতে এতো বেশি ¶তি হবে এটা কখনও চিন্তাও ওকরতে পারেননি চিংড়ি চাষিরা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঘষিয়াখালী এলাকার ঘের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, জোয়ারের পানিতে আমাদেও মাছের ঘেরগুলো সব তলিয়ে গেছে। একাকার হয়ে গেছে সব ঘের। সবাই এখন ঘেরের মাছের ব্যর্থ চেষ্টায় ব্যস্ত। পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার পরেচাষিরা বুঝতে পারবে কি হারিয়েছি। অনেককেই পুঁজি হারিয়ে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।

বাগেরহাট জেলাচিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পরে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলাম। যখনই চাষিরা মাছবিক্রি শুরু করল তখন জোয়ারের পানিতে ঘেরগুলো তলিয়ে মাছ ভেসে গেল। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আমাদের চাষিদেরও শত কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক এই প্রতিবেদককে বলেন, জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের ছয়টি উপজেলার প্রায় ৫ হাজারমৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টাকার অংকে চাষিদের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি নিরুপণ করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরুকরেছি আমরা।

বাগেরহাট জেলায় প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টও জমিতে সাড়ে ৭৮ হাজার বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়েছে। গত অর্থ বছওে সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিকটন বাগদা ও সাড়ে ১৫ হাজার মেট্রিকটন গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছিল বাগেরহাট জেলায়।