ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোনো প্রভাবই পড়বে না

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ভারতের অনুদান হিসাবে সোমবার (২৭ জুলাই) ভারত থেকে ১০টি ব্রড গেজ ইঞ্জিন আসছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে এটি সহযোগিতার আরেকটি অধ্যায়। আর আগামী ৩১ জুলাই ছিটমহল দিবস। ২০১৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে ছিটমহলগুলো বিনিময় করেছিল।

এতে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৭৪ বছরের পুরনো সমস্যার সমাধান হয়েছে। জমি কে কম পেল আর কে বেশি পেল তা নিয়ে আটকে থাকেনি কোনো দেশই।

কারণ দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের মঙ্গলের জন্য সমস্যার সমাধান করা।

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয়রাও রক্ত দিয়েছে। সেই সম্পর্কের তুলনা অন্য কারো সঙ্গে হতে পারে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান।

বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, তাঁরা এ সম্পর্ককে বিশ্বে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্কের ‘মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে পুরো ভারত যেভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে তা বিশ্বে বিরল। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ থেকে ভারত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সেনাদের সরিয়ে নিয়ে গেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বেশ কয়েক বছর আশ্রয়ও দিয়েছিল ভারত।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, চীন অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়েছে, এ জন্য এ অঞ্চলে ‘দাদাগিরি’ করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ অস্বাভাবিক কিছু নয়। আরো অস্বাভাবিক নয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলা।

নয়াদিল্লিতে শীর্ষস্থানীয় নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ড. জয়িতা ভট্টাচার্য গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ একটি বিশেষ সম্পর্কের অংশীদার। এই সম্পর্কের মূলে আছে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ ও অভিন্ন সংস্কৃতি।’

ভারতের সাবেক উপসেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আর কে সাহনি বলেছেন, দুই দেশের জন্যই পরস্পরের সঙ্গে সুসম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। কারণ পাকিস্তানের কোনো বন্ধু নেই। উপসাগরীয় দেশগুলোও পাকিস্তানকে ফিরিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের একমাত্র বন্ধু যদি এখনো কেউ থেকে থাকে সেটি হলো সৌদি আরব।’ তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইমরান খানের ভালোই জানা আছে।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার জোরালো আগ্রহ আছে। ভারতের সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। ভারতের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্যও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ।

দুরন্ত/২৬জুলাই/পিডি