দরিদ্রদের জন্য টেকসই উন্নয়ন কৌশল অবলম্বন ও সম্পৃক্তকরন প্রয়োজন

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

গত ৮ মার্চ ২০২০ থেকে বাংলাদেশে করোনা মহামারীর প্রকোপ শুরু হয়।বিশ্ব অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশেও এর প্রভাব দারুনভাবে পরিলক্ষিত হয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন হাতে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এর উত্তরণের প্রয়াস চালান। অর্থনীতির সাথে সকল বিষয় জড়িত বলে এটি সারাবিশ্বকে ভাবিয়ে তোলে।ভাবতে যেয়ে হতাশ হয়ে জনৈক দেশের এক অর্থমণ্ত্রী আত্মহত্যা পর্যন্ত করেন।

কিন্তু আত্মহত্যা বা বিচলিত না হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভর করে অবস্থানুযায়ী টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক মহামারীর কারণে দেশে যেমন চলমান বেকার,চাকরি চ্যুতিতে বেকার, নতুন বেকারের মিছিল দীর্ঘ হতে থাকে তেমনভাবে রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও বিদেশ থেকে চাকরিচ্যুতির সমন নিয়ে দেশে ফেরত এসে লাইনকে আরও দীর্ঘ করে।
এমনিতর মুহূর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা ঘোষণা করে তা নির্বাপণের চেষ্টা করেন।

সরকার পরবর্তীতে জীবন ও জীবিকার চাকা সচল করার জন্য ধীরে ধীরে সকল কর্মযজ্ঞ শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে। ফলে দেশে কর্মক্ষমরা কাজ খুঁজে নেয়ার সুযোগ পায়।

অপরদিকে বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ৮ মাসে বৈধ পাসপোর্ট ও আউটপাসে দেশে ফেরত এসেছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩০ জন শ্রমিক।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ পাসপোর্টে ফিরেছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৬ জন।আর আউটপাস নিয়ে ফিরেছেন ৩১ হাজার ৮৪৪ জন।

এরমধ্যে গতমাসে কাতারে বেশ কিছু সংখ্যক শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছেন। কেউ কেউ ভিসা জটিলতার জন্য এখনও যেতে পারেননি।আশাকরি সকল রেমিট্যান্স যোদ্ধা আবার বিদেশ পাড়ি দিতে পারবেন।আমাদের সরকারও এ ব্যাপারে বেশ আন্তরিক।

দেশে যারা বেকার আছে তাদের বিষয়েও সরকার চিন্তা করবেন। কিভাবে বেকারদেরকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন করে দেশে ও বিদেশে তাদেরকে কর্মে সম্পৃক্ত করা যায়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আরও ৭ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে ( দৈনিক ১.৯০ ডলারের কম আয়) পতিত হবে; যুক্ত হবে বিশ্বের আরও ৬৯ কোটি চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে।

তাছাড়া অতিমারীর শিকার আরও ১৭ কোটি বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে ( দৈনিক ৩.২০ ডলারের কম আয়) চলে যাবে।
তাই আর্থ- সামাজিক উন্নয়নকে স্হায়ী করতে হলে এর বৈষম্যের লাগামকে টেনে ধরতে হবে।এর জন্য প্রয়োজন প্রকৃতি ও পরিবেশ নষ্টকারী সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।তাহলেই দারিদ্র্যদের জন্য পরিকল্পিত উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ করা যাবে।

পরিকল্পিত উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের সাথে যদি কর্মক্ষম বেকারদেরকে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে দেশে বেকার সমস্যা দূরীকরণের পথ উন্মুক্ত হবে।বেকারমুক্ত সমাজ গঠিত হবে, দেশে টেকসই উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত হবে, জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

এই জন্য সরকারি প্রচেষ্টার সাথে বেসরকারি উদ্যোক্তার সমন্বয় সাধন করতে হবে। যুবকদেরকে পরিকল্পিত উপায়ে কাজে লাগালে তারা দেশ ও জাতীর বাতিঘরে পরিণত হবে।

দুরন্ত/৩নভেম্বর/আইসি