দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ নামকাওয়াস্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৩০ বছর আগে গাড়িচাপায় নিহতের ঘটনায় করা মামলায় দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টুর পরিবারকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গাড়ির মালিক বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

দুর্ঘটনার জন্য গাড়িচালকের ভুলের দায়ে মালিকের জরিমানা করা যাবে, মালিক দায় এড়াতে পারেন না—নিম্ন আদালতের এ রায় বহাল রাখেন হাইকোর্টও। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে গাড়ির মালিকের কাছে কেউ ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন—এ রায়ে তাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর বাংলাদেশ বেভারেজ কোম্পানি আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিল বিভাগ রায় বহাল রাখেন। জানা গেছে, ২৪ বছর মামলা চলার পর যে রায় এসেছে, সে রায় এখনো কার্যকর হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণে কোনো ক্ষতি হলে, ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা করা যায়। এছাড়া আইন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারে ভুক্তভোগী। কিন্তু দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হলে অত্যাধিক কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই আদালতে মামলা করা সম্ভব হয় না।

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী বা তার পরিবার যেমন ক্ষতিপূরণ বুঝে পাননি তেমনি আদেশ প্রতিপালন না করার শাস্তি না হওয়ায় খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে মালিক ও আক্রান্তদের মধ্যে আপসের নমুনা দেখা যায়। সড়ক দুর্ঘটনার ইস্যুতে বেশকিছু মামলার রায়ের বাস্তবায়ন চিত্র পর্যবেক্ষণে মিলেছে এমন সব তথ্য।

দৈনিক সংবাদের সাবেক বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টুকে ট্রাকচাপায় হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশ বেভারেজ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দেন। হাইকোর্ট ও জজ আদালতও একই রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি এখনো কার্যকরে কোনো সাড়া নেই।

এদিকে, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে খেলতে গিয়ে ওয়াসার পানির পাম্পের একটি পাইপলাইনে পড়ে মারা যায় শিশু জিয়াদ। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম একটি রিট আবেদন করেন। সেটি নিষ্পত্তি করে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায় জিহাদের পরিবার।

এমনিভাবে দেশে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে, তারেক মাসুদ ও মিশুক মনির নিহত, গ্রিন লাইন বাসের চাপায় রাসেল সরকার নামে এক প্রাইভেটকার চালকের পা হারানো, অগ্নিকাণ্ড, ফ্লাইওভার থেকে পড়ে মৃত্যু, সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মৃত্যু, পিটিয়ে চোখ ও হাত ফুলিয়ে ফেলা, হত্যা মামলার আসামি না হয়েও পুলিশ কর্তৃক শিশুকে আসামি করা, কেরানীগঞ্জের শুভাড্য খালে পড়ে নিহত, একজন বিনা বিচারে দেড় যুগ আটক, সাটুরিয়া থানায় আটকে রেখে পুলিশের পরিবহনে গণধর্ষণসহ বিভিন্ন ঘটনায় আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ ও রুল জারি করলেও তা প্রতিপালনের নজির খুবই কম।

মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতা রয়েছে, তারা চাইলে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে যদি জনস্বার্থের মামলাগুলো শুনানির জন্য বেঞ্চ বা কোর্ট নির্ধারণ করে দেয় তা হলে এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষ বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কিছুটা হলেও রেহাই পেতে পারে।

ক্ষতিপূরণ পায়নি সাংবাদিক মন্টুর পরিবার, ২০ লাখ টাকা দেয়ার পর গ্রিন লাইন পরিবহনের মালিকের পক্ষ থেকে পুরো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি পা হারানো রাসেল সরকারকে। এছাড়া ক্ষতিপূরণ পায়নি বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারও।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা হাত-পাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারানোর ঘটনায় বহু মামলার রায় উচ্চ আদালতে আটকে আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দিনের পর দিনও আপিল কার্যক্রমও শেষ হয়নি অথবা হাইকোর্টের যে বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়েছিল, সেখানকার বিচারপতি অবসরে চলে গেছেন, ফলে বিচারপ্রার্থীদের বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে আদালতের বারান্দায়। আবার ক্ষতিপূরণ আদায়ে মালামাল ক্রোক কিংবা সম্পত্তি নিলামের আদেশও তামিল হয়নি। তাই ক্ষতিপূরণের মামলা হলেও হাতে গুণে খুব সংখ্যক মামলার রায় বাস্তবায়ন হয় বা পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়।

ক্ষতিপূরণ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে আইনজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই দীর্ঘ আইনি জটিলতা আর ঝামেলার কারণে অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হতে চান না। সেখানে যদি ক্ষতির শিকার ব্যক্তি বা পরিবার আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে না পায় তাহলে হতাশা বাড়ছে। রায় বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তদারকিতে আদালতেরই একটি ম্যাকানিজম বের করা দরকার। পাশাপাশি এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা দূর এবং মামলা পরিচালনায় আর্থিকভাবে অসচ্ছলদের সহায়তার ব্যবস্থা থাকা দরকার। ক্ষতিপূরণ আইনও যুগোপযোগী করা দরকার বলে আইনজীবীরা মনে করেন।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় উচ্চ আদালতের বেশকিছু নির্দেশনা আছে। যারা এসব আদেশ বাস্তবায়ন করছেন না তাদের আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে ব্যবস্থা নেয়া, আইন মেনে না চললে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও মনে করে আইনজীবীরা। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ হলো দেওয়ানি বিষয়। কেউ ফৌজদারি মামলা করার পাশাপাশি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনায় টর্ট আইনে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। টর্ট অর্থ হচ্ছে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার। বিশ্বের অনেক দেশে এ আইনের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে টর্ট আইন থাকলেও এর বিধি না থাকায় আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ক্ষতিপূরণ নিয়ে আদালত অনেক রায় দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটা গুরুতর অপরাধ। রায় অমান্যকারীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা দরকার।

কয়েক বছর আগে ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে কলেজছাত্র রাজীবের হাত এবং মহাখালীতে বাসচাপায় গৃহকর্মী রোজিনার পা বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে অসন্তোষের রেশ কাটতে না কাটতেই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে। এরপরই নিরাপদ সড়ক দাবিতে বিক্ষোভে নামে ছাত্রছাত্রীরা। এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের তখনকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরসহ পাঁচ আরোহী। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন। সেই মামলার একটির চূড়ান্ত রায়ে তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তিন মাসের মধ্যে বাসের মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে এই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। এর মধ্যে বাসচালক ৩০ লাখ, বাস মালিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সকে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। বাস মালিকপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যায়। ফলে এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি তারেক মাসুদের পরিবার।

এদিকে আড়াই বছর আগে রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ‘জরুরি খরচ’ হিসেবে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সুপ্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সাতদিনের মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যুতে তার পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চান আদালত। হাইকোর্ট এ আদেশ দিলেও এখনো সেই টাকা দেয়নি বাস মালিকপক্ষ।

ক্ষতিপূরণ পায়নি চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের পরিবার:

রাজধানীর চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। কিন্তু পরবর্তীতে আর ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ঘটেই চলছে পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সর্বশেষ আরমানিটোলায় আগুনে নিহত হয়েছেন পাঁচজন, আহত হয়েছেন বহু সংখ্যক।

ক্ষতিপূরণ পায়নি সাদিয়া আফরিন সূচির পরিবার:

২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন সূচি। এরপর সারাদেশে প্রতিটি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় বাস মালিকের পক্ষ থেকে সূচির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে বললেও এখনো তা দেয়া হয়নি।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নজির খুবই কম:

সড়ক দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন হতাহতের ঘটনায় আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দিলেও তা প্রতিপালনের নজির খুবই কম। দেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছে নিহতের পরিবার। ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র বেলাল হোসেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচত্বরের সামনে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় নিহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আমজাদ হোসেন, তুরাগ পরিবহনের মালিক এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমের মধ্যস্থতায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায় বেলালের পরিবার।

১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের সামনে মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফিয়া গাজী। ঘটনার ২৬ বছর পর বিআরটিসি নাফিয়া গাজীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া আক্তার মিম। পরে ওই দুই পরিবারকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয় জাবালে নূর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের পরিবারকে আদালতের আদেশ অনুসারে ২০ লাখ টাকার ‘চেক ও পে-অর্ডার’ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গ্রিন লাইনে পা হারানো রাসেল সরকার পেয়েছে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা

বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকার মধ্যে আরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বাকি ২০ লাখের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দুটি কিস্তিতে দেয়া হবে বলে গ্রিন লাইনের আইনজীবী লিখিতভাবে জানান। দুটি চেকের মাধ্যমে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে ওই চেক হস্তান্তর করার পরে সেটি রাসেলকে বুঝিয়ে দেয়া হয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি। আদালতের রায় ও নির্দেশ অনুসারে এখন পর্যন্ত রাসেলকে ২০ লাখ টাকা এবং তার চিকিৎসাবাবদ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছে গ্রিন লাইন বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা।

এমভি নাছরিন-১ লঞ্চ দুর্ঘটনা, এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবার

২০০৩ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় প্রায় ৮ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ভোলার লালমোহনগামী এমভি নাসরিন-১ লঞ্চটি রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ত্রি- মোহনায় পৌঁছলে অথৈ জলরাশির ঘূর্ণিপাকে ডুবে কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠলেও পাঁচ শতাধিক জনের সলিল সমাধি হয়।

দেশে নৌদুর্ঘটনার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। নাসরিন লঞ্চডুবির ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ মেলেনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

লঞ্চ দুর্ঘটনা এমভি নাসরিন নিয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) থেকে ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর ধরে মামলাটি চলছে। এখনো ওই সব পরিবারের লোকজন ক্ষতিপূরণ পায়নি।

২০০৪ সালে ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে ১২১ জন বাদী মামলা করেন। মামলাটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। পরে ২০১৭ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন। নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তির প্রত্যেক পরিবার পাবে ১০ লাখ এবং আহত ব্যক্তির পরিবার পাবে এক লাখ টাকা করে। কিন্তু এখন সেই আদেশ স্থগিত রয়েছে।

অবহেলা-গাফিলতিতে মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি

উত্তরার এক বাড়ির গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। বনানীতে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে আহত হন ২০ জন। বিস্ফোরণে একটি বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। অথচ এ জন্য কারা দায়ী, কারা ক্ষতিপূরণ দেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যু, লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু, ওভারব্রিজ ভেঙে পড়ে মৃত্যু, রাস্তায় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু, গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনা তো লেগেই আছে।

এ ক্ষেত্রে টর্ট (ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার) আইনের প্রচলন হলে এসব মৃত্যুর দায়ভারও যেমন নির্ধারিত হতো ও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পেত, তেমনি এ ধরনের ঘটনাও কমত বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করেন।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আইনি অবকাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রত্যেককে তার দায়িত্ব মানতে হয় আইন অনুসারে। তাদের কোনো দায়িত্বে অবহেলার কারণে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন, সেই ক্ষতিপূরণ তারা দিতে বাধ্য। এছাড়া যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার ক্ষতিপূরণ দেবে ক্ষতিকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ বিধান প্রচলিত।

আইনজীবীরা মনে করেন, আমাদের দেশে একটি সাধারণ প্রবণতা রয়েছে, কেউ কোনো ক্ষতির দায়ভার নিতে চায় না। সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিটি করপোরেশন তার দায় এড়িয়ে চলে। গ্যাসলাইনের কারণে কোনো ক্ষতি হলে তিতাস দায় নিতে চায় না। রাজউক, রিহ্যাব বা এ রকম আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে কেউ কোনো ক্ষতির দায় নিতে চায় না।

তারা বলছেন, আমাদের দেশে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলার অভ্যাসটা একেবারেই কম। আমরা কথায় কথায় ফৌজদারি মামলায় অভ্যস্ত। কারও দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার বিধান রয়েছে, তবে এটির প্রচলন নেই বললেই চলে।

যেভাবে করতে হয় ক্ষতিপূরণ মামলা

দায়িত্বে অবহেলা বা অসাবধানতায় কোনো দুর্ঘটনা বা কোনো কাজের দ্বারা আহত বা নিহত ব্যক্তি বা ব্যক্তির স্বজনরা বা ওয়ারিশরা দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন। ক্ষতিপূরণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো হার নেই। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে মামলার কার্যক্রম চলবে।

বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, তার চাকরি বা তার কর্মক্ষেত্রের কাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থান, পরিবার কতটুকু ক্ষতির সম্মুখীন হয় তার যুক্তিসঙ্গত কারণ লিপিবদ্ধ করেই ক্ষতিপূরণ মামলা করতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর মারা যাওয়া রাজিবের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর সেটি নিয়ে স্বজন পরিবহন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যায়। আপিল আবেদন শুনানির সময় স্বজন পরিবহনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে তারা ১০ লাখ টাকা জুন মাসের মধ্যে দেবেন। আপিল বিভাগের সামনে তারা এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে কোর্ট বন্ধ থাকাবস্থায় স্বজন পরিবহনের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেছিলেন তাদের কাছে তিন লাখ টাকা প্রস্তুত। আমি তখন বলেছিলাম, যেহেতু কোর্ট এখন বন্ধ, আর আপনারা তাদের ১০ লাখ টাকা দেবেন বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন, কমিটমেন্ট করেছিলেন, এখন আমি তো আদালতের আদেশ ও অনুমতি ছাড়া এই তিন লাখ টাকা রাজিবের পরিবারকে গ্রহণ করার জন্যে বলতে পারি না।’ করোনার কারণে সময় মতো এ মামলার শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এছাড়া গাড়ির চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মিম ও রাজিবের পরিবার পাঁচ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা পেয়েছিল। এখনো ওই মামলা হাইকোর্টে শুনানির জন্য রয়েছে।’

দেশের ভেতরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর করা ক্ষতিপূরণের মামলা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে রাজিবের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘কোর্টে রিট করে যে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় এটার আসলে কোনো নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া বা সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে কেইস টু কেইস বেসিসে, পরিবার, চাহিদা, গুরুত্ব ও কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি লামসাম ক্ষতিপূরণ নির্দেশ দেন। যেমন- ওয়াসার পাইপলাইনে পড়ে শিশু জিহাদ মারা যাওয়ার ঘটনায় যে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে এটা লামসাম। যেহেতু শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি রায় দিয়েছেন, সেটাকে একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরে বা মোডিফাই করে ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে।’

গ্রিন লাইনের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে নিয়ে রিটকারী আইনজীবী ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে রেখা স্মৃতি বলেছেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রাসেল সরকারকে গ্রিন লাইনের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে এখন আর শুনানি হয়নি। তবে আশা করি এর মধ্যে হাইকোর্টে রাসেলের বিষয়ে শুনানি হবে।’

মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে উচ্চ আদালত সরাসরি এর মধ্যে অনেকগুলো আদেশ দিয়েছেন। যেমন বিভিন্ন বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে, করোনায় ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এছাড়া অন্যান্য সব মামলায় আদেশ দিচ্ছেন আদালত। এরপর কিন্তু রায় এবং আদেশ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। উচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিচ্ছেন ও এসব আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যখন আপিল করেন সেগুলো কিন্তু স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আটকে যাচ্ছে আপিলে।’

তারেক মাসুদ মিশুক মনির, রাজিব, রাসেলসহ সড়ক, নৌ এবং সেপটিক ট্যাংকে পড়ে মারা যাওয়া এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে অ্যাডভোকেট উম্মে রেখা স্মৃতি বলেন, ‘যারা মারা গেলেন তারা তো চিরদিনের জন্যই চলেই গেলেন, যারা বেঁচে থাকে তাদের তো কষ্টের সীমা নেই, তাই ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। আমার মতামত হলো, যেসব যানবাহনের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই সব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু সব ক্ষতিপূরণের বিষয় যদি সরকারের কাছে আসে সরকার কোথা থেকে এত ক্ষতিপূরণ দেবে।’

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণে কোনো ক্ষতি হলে, ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা করা যায়। এছাড়া আইন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারে ভুক্তভোগী। কিন্তু দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হলে অত্যধিক কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই আদালতে মামলা করা সম্ভব নয়।’

এ পর্যন্ত আব্দুল হালিমেরই রিট এবং অন্যান্য মিলিয়ে ২৫টির মতো মামলা রয়েছে, যা দীর্ঘসূত্রতাসহ বিভিন্ন কারণে শুনানি হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

আব্দুল হালিম বলেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতা রয়েছে, তারা চাইলে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে যদি জনস্বার্থের মামলাগুলো শুনানির জন্য বেঞ্চ বা কোর্ট নির্ধারণ করে দেয়া হয় তা হলে এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষ বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কিছুটা হলেও রেহাই পেতে পারে।’

তারেক মাসুদ ও মিশুক মনীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রমজান আলী বলেন, ‘দেশে মোটর ভেহিকেল অর্ডিন্যান্স ও স্যাটেল অ্যাক্ট এই দুই ধরনের আইন আছে ক্ষতিপূরণের মামলা করার জন্য। কেউ যদি যানবাহনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন। আদালত সে অনুযায়ী বিচার বিশ্লেষণ করে মামলায় ক্ষতিপূরণের আদেশ বা রায় দেবেন।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এএম জামিউল হক ফয়সাল বলেন, ‘তারেক মাসুদ এবং মিশুক মনিরের দুর্ঘটনায় যখন মামলাটি ট্রায়াল কোর্ট থেকে হাইকোর্টে আসলো, সেখান থেকে হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তারেক মাসুদ এবং মিশুক মনিরের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, একটি অর্থ কমিটি করতে। তাদের জীবনের মূল্য কি? তারা বেঁচে থাকলে কি পরিমাণ ইনকাম বা রোজগার করতে পারতেন? এটি নির্ণয় করার জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি করা হয়েছিল। যেটিতে ছিলেন ড. এম এম আকাশসহ আরও বেশ কয়েকজন।’

জামিউল হক ফয়সাল বলেন, ‘তাদের জীবনের তো আর মূল্য হয় না বা হবেও না, কিন্তু তারা কী পরিমাণ ইনকাম করতে পারতেন তা নির্ণয় করার জন্য আদালত বলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি হাইকোর্টেও ক্ষতিপূরণের যেসব আদেশ বা রায় হচ্ছে তাতে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ নিরূপণ ছাড়া বা যেকোনো টেকনিক্যাল কমিটি অথবা ক্ষতিপূরণের বিভিন্ন গাইডলাইন ছাড়া ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ণয় করা, আমার জীবনের যে মূল্য অন্যের জীবনের মূল্য সমান হতে পারে না। তাই সম্ভবত উচ্চ আদালত থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়তো এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত পেতে পারি।’

জামিউল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্ষতিপূরণের জন্য নির্দিষ্ট আদালত আছে এবং আইনে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের কথাও বলা আছে, যেমন- বাংলাদেশে একটি আইন- মোটর ভেহিকেল অর্ডিন্যান্স, যেটি বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন, সেখানেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধানগুলোর কথা বলা আছে। কিন্তু আমরা যারা রিটে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করি, বাংলাদেশে এটা একটা এক্সারসাইজ কনস্টিটিউশনাল রেমিড হিসেবে। কনস্টিটিউশনাল রেমিড হিসেবে যেখানে রাইট টু লাইফ মানুষের জীবনের প্রশ্ন এবং জীবন কেড়ে নেয়া হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে আমরা অনেকগুলো মামলা করেছি। সেইগুলো হলো- রাইট টু লাইফের অংশ হিসেবে এবং ফান্ডামেন্টাল রাইটস ভায়োলেশন হয়েছে, যেখানে ফান্ডামেন্টাল রাইটস ভায়োলেশনে কোনো দুর্ঘটনা হয়, সেখানে কনস্টিটিউশনাল কোর্ট হিসেবে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে এটার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকটি মামলায় জাজমেন্ট এসেছে। পৃথিবীর অনেক দেশসহ ভারতেও কনস্টিটিউশনাল রেমিড হিসেবে আলাদা একটি রেমিডি আছে, সেখানে আমরা এটা দাবি করতেই পারি।’

অ্যাডভোকেট জামিউল হক আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনায় টর্ট আইনে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। টর্ট অর্থ হচ্ছে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার। বিশ্বের অনেক দেশে এ আইনের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে টর্ট আইন থাকলেও এর বিধি না থাকায় আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই। এ দেশে কারও দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি বা অন্য কোনো অসাবধানতার কারণে কারও মৃত্যু হলে বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো নজির নেই। অথচ দেশে এ ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা অহরহ ঘটছেই।’

দুরন্ত/১৩মে/পিডি