‘ধর্ষণের বিচার অপেক্ষা ধর্ষক মুক্ত সমাজ শ্রেয়’

রায়হান ইসলাম:

দেশে লাগামহীন নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা আজ জাতিকে অবাক করেছে! শিশু,তরুণী ও বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কোন বয়সের নারী আজ শ্লীলতাহানি কিংবা ধর্ষণের মতো ঘটনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। দেশে যেন এ এক নতুন মহামারীর রূপ নিয়েছে! রাস্তা-ঘাট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,অফিস,কর্মক্ষেত্র এমনকি নিজ ঘরেও নারীরা আজ নিরাপদ নয়।নিকটাত্মীয় কিংবা পরিচিত জনের কাছেও তাদের নিরাপত্তা অনেকটা সন্দীহান। অনেক সময় তাদেরই লালসার শিকার হয়ে নিজের সম্মানটুকু বিসর্জন দিচ্ছে নারী। পিতা,ভাই, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম কিংবা অফিসের বস্ সর্বস্থলে নারীর সম্মান আজ হুমকির মুখে।
দেশে ধর্ষণের চিত্রঃ

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন।অর্থাৎ এক বছরে ধর্ষিতার সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ।অন্যদিকে ধর্ষকের সংখ্যাও তো বেড়েছে।ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬ জনকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০ জন নারী।মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী,২০১৯ সালে ৪ হাজার ৬২২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৭০৩ জন।ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ২৪৫ জনকে।অপহরণের শিকার হয়েছে ১৪৭ জন।নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে ২৬৪ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছে ২৪ জন।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে জানা গেছে,২০২০ সালের গত নয় মাসে মোট ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ৯৭৫ টি। দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিনটির বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

থেমে নেই অবশ্য, সংখ্যার জয়যাত্রা চলছেই।প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে নারী নির্যাতনের নতুন নতুন সংবাদ। এক সংবাদ অন্যটিকে যেন নৃশংসতায় ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

দেশে ধর্ষণের এই মহামারী রূপ নেপথ্যে কারণঃ
যৌন চাহিদা মানুষের জীবনের একটি অন্যতম অধিকার।তবে এই চাহিদাকে বিকৃত করে উপস্থাপনই হচ্ছে ধর্ষণ।দেশে ধর্ষণের লাগামহীন বেড়ে চলার অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়।ইন্টারনেটে অবাধ পর্নোগ্রাফির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্প পরিচয়ে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশা, বিভিন্ন চ্যানেল, বিশেষ করে পাশের দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে যা দেখানো হয়,তা-ও ধর্ষণের মতো অপরাধকে উসকে দিচ্ছে।বিজ্ঞাপন দেখে একটি ছোট ছেলেও জানতে পারছে,শরীরকে উত্তেজিত করতে হলে কী খেতে হবে এবং কিভাবে এর চাহিদা মেটাতে হবে।আর এসব কিছুর পেছনে রয়েছে নৈতিক শিক্ষার অভাব।

অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যবাদ নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের অন্যতম কারণ।আমি পুরুষ, আমার ক্ষমতা আছে যেকোনো সময় যেকোনো নারী বা শিশুকে ভোগ করার।এই মানসিকতার ফলেও সমাজে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

আবার ধর্ষণের ঘটনার শুরুতে পরিবারের সমর্থন থাকলেও পরে নানাবিধ খরচ,প্রশাসনিক জটিলতা আর সামাজিক চাপে তা দমিয়ে যায়।মামলার পথঘাট সহজ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে। আদালতে বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অপরাধী পার পেয়ে যায়।থানা ও আদালতের পরিবেশ, ‘চরিত্রহীন’ প্রমাণের চেষ্টা, ডাক্তারি পরীক্ষা—এসব ধর্ষণের অভিযোগকারীকে বিপর্যস্ত করে। আবার ধর্ষক যদি কোন দলের অনুসারী হয়। তবে সেটার সদ্ব্যবহার করে আখের গুঁজানোর চেষ্টা অব্যহত রাখছে। ফলে ধর্ষণের বিচারে নারীর সামনে পদে পদে সৃষ্টি হয় বাধা!আসে আপসের চাপ।ফলে ধর্ষকের কোন শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেরেই চলেছে।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই, প্রকাশ্যে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের ঘটনা মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেও আদালতে ধর্ষকের পক্ষে আইনজীবী পাওয়া যায়!
দেশে নৈতিকতা কতটা অবনতির নিম্নপর্যায়ে গেলে এমন পরিবেশ হতে পারে।জাতি আজ সেটা ভেবে অবাক এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে হতাশ!
‘ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’ তবেই কি মুক্তি?

ইদানীং দেশে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবের মতো বিচার দাবি করা হচ্ছে।বলা হচ্ছে ধর্ষককে কেন প্রকাশ্যে ক্রসফায়ারে হত্যা কিংবা ফাঁসি দেয়া হয় না?হ্যাঁ,দাবি টা অবশ্যই যৌক্তিক।এটা অব্যশ্যই হওয়া দরকার।কিন্তু সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের পরকাষ্ঠা হয়েও বিশ্বের ধর্ষণ তালিকায় (উইকিপিডিয়া রেপ স্ট্যাস্টিসটিক) সামনের দিকেই অবস্থান করছে! কেন? বাংলাদেশের শত শত মহিলা কর্মী সেখানে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়ে মুমুর্ষূ অবস্থায় দেশে ফিরছে কেন?প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।
সৌদি আরবে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।কিন্তু সঙ্গে লাগবে ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষী।শাস্তির নামে কী প্রহসন! আরেক মুসলিম দেশ পাকিস্তানও তালিকার প্রথম দিকের নাম। সেই দেশের শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড।

ইউরোপ বা আমেরিকা পিছিয়ে নেই।শান্তিপ্রিয় দেশ সুইডেনের প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৬৯ জন নারী ধর্ষণের (২০১৪) শিকার।তবে ধর্ষকদের বেশিরভাগই বিদেশি। ফ্রান্সে তো সবে ১৯৮০ সালে আইন পাস করা হয়েছে যে ধর্ষণ একটি ক্রাইম।

আবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।তখন ২০১২ সাল। দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের মেয়ে জয়ন্তী সং পান্ডে গণধর্ষণের শিকার হয়।নির্মম এই গণধর্ষণের পর ধর্ষক বাস চালক একটি রড মেয়েটির যোনিপথ ও পায়ুপথে ঠুকিয়ে দেয়।এরপর হাত ঠুকিয়ে ভেতরের সব নাড়িভূড়ি টেনে বের করে আনে ও মেয়েটিকে তার বন্ধুসহ কাপড় ছাড়া রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।২০১২ সালের এই ঘটনাটি শিক্ষিত মহলকে হতভম্ব করে দিয়েছিল।দিল্লি পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে গ্রেফতার করেছিল।আসামিদের ফাঁসিও হয়েছে।কিন্তু ভারতে ধর্ষণ কি কমেছে?

ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর ২০১৮ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে,ভারতে প্রতিদিন ৯১টি ধর্ষণ, ৮০টি খুন আর ২৮৯টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, প্রতি ১৫ মিনিটে সেখানে একজন মহিলা ধর্ষণের শিকার হন। কিন্তু বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি।

২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে নির্ভয়া কান্ডের পরে আরো বহুগুন ধর্ষণের ঘটনা রেড়েই চলেছে ভারতে।ধর্ষণ সেখানে আজ স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাহলে ধর্ষণের সমাধান কিসে?
বাংলাদেশে তনু ধর্ষণের পর হত্যা, নুসরাত, হালের শিশু সায়মা!হাইকোর্টের শিশু তানিয়া,সিলেটে স্বামীকে বেধে স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ফজরের নামাজে ওঠে ইমাম কর্তৃক নারী ধর্ষণসহ দেশে যতবার একটি করে ধর্ষণ ঘটনা ঘটছে বাঙালিরা হুঙ্কার দিয়ে ওঠে ফাঁসি চাই।ফাঁসি চাই!রাজপথ উত্তাল।ফেইসবুক,টুইটার সহজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের জোয়ার।পুরো জাতি যেন বসে থাকি কখন আরেকটি নারী বা শিশু ধর্ষণ/খুন হবে!আর আমরা ফেসবুকজুড়ে পোস্ট দেব।রাজপথে মানববন্ধন করব। মিছিল মিটিং আন্দোলন হবে।মিডিয়া ফ্রন্ট পেইজে কিছুদিন ছবিসহ হেডলাইন হবে। আবার সবাই ব্যস্ত। অপেক্ষা পরবর্তী ধর্ষণ/খুন চলতেই থাকবে।

তবে হ্যাঁ, এটা বলা ঠিক হবে না এসবের প্রয়োজন নেই।এই দাবি, আন্দোলন ও সংগ্রাম অবশ্যই দরকার। এগুলো বাঙ্গালির ঐতিহ্য।যার মাধ্যমে অতীতে জাতি পেয়েছিল মুক্তির দিশা।তাই আমাদের এ ধারা জারি রাখতেই হবে।তবে মনে রাখতে হবে,আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম শুধু অন্যায়ের বা অপরাধের বিরুদ্ধে হলে হবে না!হতে হবে-সমগ্র সিস্টেমের বিরুদ্ধে।প্রতিকারে সমাধান নয়,চাই প্রতিরোধ।

দুনিয়াতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে তথাকথিত উন্নত রাষ্ট্রে অনেক আইন-ই হয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা পেয়েছে কি সেই দূর্ভাগা নারী জাতি? উত্তর-না! তারা সেটা পায় নি।

ইসলামে চোর মুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে আগেই চুরির শাস্তি ‘হস্ত কর্তন’ আইন পাশ করা হয় নি।আগে রাষ্ট্রীয় ভাবে সর্বস্তরের মানুষের খাবারের অভাব পূরণ করা হয়েছে।কেননা যার খাওয়া-পড়ার চিন্তা নেই সে চুরি করবে কি দুঃখে?তারপরও যে চুরি করে সেটা তার অপরাধ।সেটার জন্য তার উপযুক্ত শাস্তি হস্ত কর্তন বাস্তবয়ন করা হয়েছে।এখন নিজেকে নিয়ে একটু চিন্তা করেন!

আপনার হাত না থাকলে সমাজে চলাফেরা বা কোন দায়িত্ব পালনে আপনার কি অনুভূতি প্রকাশ পাবে?সেটা দেখে আপনাকে নিয়ে অন্যদের মনে কি প্রভাব পড়বে বা তাদের মনে চুরির পরিণাম সম্পর্কে কি অনুভূতির সৃষ্টি হবে?সমাজে চলাফেরার সময় আপনার কাটা হাত দেখে যখন ছোট্ট শিশুটা টিটকারি করবে। তখন কি আর চুরির ইচ্ছে মনে জাগ্রত হবে?

প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগে আরবের অসভ্য বর্বর জাতি যখন নারীদের কেবল ভোগের বস্তু মনে করত।তাদের দিত না কোন সামাজিক অধিকার,মর্যাদা কিংবা সম্মান।জীবন্ত কবর দিত নারী সন্তানকে।কিন্তু তাদের নিকট হযরত মুহাম্মদ (স) কি এমন বাণী নিয়ে এসেছিলেন যে,তারা সেই আরবের নারীদের ইজ্জতের পাহারাদার হয়ে গেল।সেই তারাই নারীদের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষায় নির্ভীকচিত্তে নিজের জীবনের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিল। হ্যাঁ, এটাই ইসলাম। মুক্তি পথ।

অনেকে নারীর পর্দা নিয়ে বলে থাকেন,’নারী যদি অর্ধনগ্ন হয়ে চলাচল করে তবে তো ধর্ষিত হবেই’!

প্রতিত্তোরে আবার বলা হয়ে থাকে,’তাহলে মক্তবে পড়তে গিয়ে শিশু ধর্ষণ, মসজিদের ইমাম কর্তৃক নারী ধর্ষণ, রাস্তায় হিজাব পরিহিতা নারীর শ্লীলতাহানি’ এগুলো কেন হল?
আসলে একমাস না খেতে পাওয়া কুকুরকে দুতলা থেকে খাবার ফেলে, ‘খাস না, খাস না’ বলে জিকির করা আর দেশে সর্বত্র মাদক ছড়িয়ে দিয়ে ‘ধুমপান মৃত্যুর কারণ’ বলে সতর্ক একই কথা। দুটোই অবাঞ্চিত।

ঠিক তেমনি দেশের যুকব সমাজের মধ্যে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা,সঠিক ইসলামের জ্ঞান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ ইসলামি শিক্ষাদানের অভাবে তাদের নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।সমাজে অপসংস্কৃতি প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।যার ফলে প্রতিনিয়ত জাতি গুম,খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনার শিকার হচ্ছে।

কিন্তু রাষ্ট্রে ইসলামী আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকত।সমাজে সালাত প্রতিষ্ঠিত হত।তবে জাতি সমাজের এই চিত্র দেখতে পেত না।কেননা সালাত জাতিকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।কোরআনে বলা হয়েছে,’নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে’।

রাস্তা চলাচলের ক্ষেত্রে সালাত মুমিন বন্দাহকে শিক্ষা দেয়,’যখন রাস্তা চলাচল করো তখন দৃষ্টি অবনত রাখো-আল হাদিস

তাই রাস্তার পাশ দিয়ে লগ্ন কিংবা অর্ধনগ্ন মহিলা গেল সেটা তো একজন মুমিনের চিন্তার কারণ হতে পারে না।তাই বলে ইসলাম নারীকে লগ্ন হয়ে চলার অনুমতি দেয় নি।ইসলাম সর্বাবস্থায় নারীর পর্দার ব্যাপারে যথেষ্ট কঠোর।’তোমরা জাহেলি যুগের রমনীগণকে মতো নিজেকে প্রদর্শন করে বেরিয় না’- আল কোরআন।

ইসলামে ব্যভিচার সুস্পষ্ট হারাম।কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ’-সূরা আল ইসরা

সর্বোপরি একটি রাষ্ট্রে ইসলামের সকল বিধি বিধান বাস্তবায়িত হলে সেই দেশে ধর্ষণের মতো ঘটনা আর মহামারী আকার ধারণ করবে না।একজন মুমিনের দ্বারা তার মা-বোনের ইজ্জত কখন লুন্ঠিত হবে না।

তারপরেও যদি কেউ সীমা লঙ্ঘন করে।তার জন্য ইসলামে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ,তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর।আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়,যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে’-সূরা নূর:২

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে,‘অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর।আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে একশ’ বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড)-সহিহ মুসলিম

ইসলামের এই আইনে যদি একটা বিচার কার্যকর হয় আর দেশের সকল চ্যানেল যদি সেটা একযোগে প্রচার করে।দেশে ধর্ষণ তো দূরে থাক যুবকদের স্বপ্নদোষ বন্ধ হয়ে যেত!
তার আগে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের পূর্ণ অনুশাসন অনুসরণ করতে হবে।কেননা অপসংস্কৃতির মাঝে জাতি অপকর্মে লিপ্ত হবে না সেটা তো যুক্তির কথা হতে পারে না।কেননা ইসলাম প্রতিকারে নয় প্রতিরোধে বিশ্বাসী।

দেশে ধর্ষণমুক্ত সমাজ বিনির্মানে সকল যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে এসে রাষ্ট্রকে অবশ্যই পুর্নাঙ্গ ইসলামি অনুশাসন অনুসরণ আগে করতে হবে।দেশের অার্থসামাজিক অবকাঠামোর কথা চিন্তা করে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।তবেই জাতি ধর্ষণের মতো অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।মনে রাখতে হবে-‘ধর্ষণের বিচার অপেক্ষা ধর্ষক মুক্ত সমাজ শ্রেয়’।

শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দুরন্ত/৯অক্টোবর/পিডি