নারায়ণগঞ্জে অপহরণ, খুন ও গুমের পরে ফিরে এলেন যুবক!

মোহাম্মদ ইমন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

৯ মে সাল ২০১৪। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় একটি অপহরণ, খুন ও গুমের অভিযোগ এনে করা হয়েছিল মামলা। ঘটনার চাক্ষুস এক নারী স্বাক্ষীও ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। এতে সেই মামলার আসামী হয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ এবং রিমান্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের সদস্য ও খালাতো বোনসহ ৬ ব্যক্তি।

এ ঘটনায় গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৬ বছরের মাথায় আদালতে হাজির খোদ মৃত ব্যক্তি মামুনকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামান এর আদালতে হাজির করা হলে পুরো আদালত পাড়ায় চাঞ্চল্যকর ঘটনার রূপ নেয় ।

জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব নিজ বাড়ি থেকে ২০১৪ সালের মে মাসের ১০ তারিখে বেড়িয়ে মামুন নিখোঁজ হন। তবে তখন থানায় কোন সাধারণ ডায়রী কিংবা অভিযোগ করা হয়নি। এরপর ছেলেকে না পেয়ে ঘটনার ঠিক ২ বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে মেয়ের সাথে প্রেম করায় তার ছেলে মামুনকে অপহরণ করে খুন করার উদ্দেশ্যে খুন এর অভিযোগ এনে ফতুল্লা থানায় মামলা করেন মামুনের পিতা আবুল কালাম।

সেই মামলায় নিখোঁজ মামুনের কথিত প্রেমিকা তসলিমা, তার বাবা রকমত আলী, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সাগর এবং সাত্তার মোল্লাসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মিজানুর রহমান। মামলা দায়েরের পরে সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ।

আদালতে আসামীদের রিমান্ড চাওয়ার সময়ে আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ১০ মে খালাতো বোন তাসলিমা মামুনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়ে গুম করেছে। পরে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন।

সেই চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে করতে রাজী না হওয়াতেই বিবাদী ৬ জন মিলে মামুনকে কোমল পানির সাথে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সিএনজি চালিত অটো রিকশা করে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তবে মামুনকে নিয়ে কোথায় কিভাবে কি অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা জানা যায়নি।

এদিকে আদালতে শুরু হয় মামলাটির বিচার কাজ। এরই মধ্যে আদালতে এসে হাজির হন কথিত অপহৃত সেই যুবক মামুন। অথচ পুলিশ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ওই অপহৃতকে হত্যার পর লাশ গুম করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছে। আর সিআইডি তাদের চার্জশীটে বলেছেন, যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। এসব কারণে গত ৪ বছর ধরেই মামলার আসামী হয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ ও রিমান্ডের শিকার হয়েছেন খালাতো বোন সহ ৬ জন। মামলাটির বিচার কাজও সম্পন্নের পথে ছিল।

উল্লেখ্য যে, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার দায় স্বীকার করে আদালতে তিন আসামীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরে চলতি বছরের ২৩ আগষ্ট নিখোঁজের ৫১ দিন পর ফিরে আসে সেই জিসা মণি। এর জন্য অনেকে বলছেন আবারও জিসা মনি কান্ডের পুনরাবৃত্তি হলো নারায়ণগঞ্জে।