‘নির্বাচন কমিশনের কাজ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের হাতে কোনো কাজ নেই। তাই কমিশন অকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, মহামারির মধ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিওর অনেকগুলো মৌলিক সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ হঠকারী, অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি মহলবিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল। আমরা নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগ প্রচণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।

ফখরুল বলেন, কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার সময়কাল ইতিমধ্যে তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এই সময়কালে এই কমিশন একটিও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেনি। এই অবস্থায় তারা নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে বিধবস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরো দুর্বল করার অপপ্রয়াস করছে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্বাচনী ব্যবস্থার যে ক্ষতি তারা ইতিমধ্যে করেছে সেই ক্ষতি পূরণ করা, নতুন কোনো সর্বনাশের হাত থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে রক্ষা করা।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম শ্রদ্ধা কিংবা আস্থা নাই। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যারা গলাটিপে হত্যা করেছে কেবলমাত্র তারা এবং তাদের সহযোগী হিসেবে নির্লজ্জ ভূমিকা রাখা বর্তমান শাসকগোষ্ঠির নির্বাচন কমিশনই দায়ী।

তিনি বলেন, তাদের (ইসি) সবচেয়ে ভয়ানক অপচেষ্টা হলো আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার কফিনের শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া। তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করার জন্যও যেন উঠে-পড়ে লেগেছে। ভবিষ্যতে একটি ভালো নির্বাচন কমিশন পাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে চায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন।

ফখরুল বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। এটার কারণে আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আমাদের আন্দোলনের অংশ, পার্ট অব দ্যা মুভমেন্ট। আপনি যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না, আপনি যখন ডেমোনেস্ট্রেশন করতে পারেন না, তখন তো সেই সুযোগগুলো নিতে হবে যে সুযোগে আপনি কিছুটা হলেও জনগণের কাছে যেতে পারবেন, জনগণকে নিয়ে এগিয়ে আসতে পারবে, কথাগুলো বলতে পারবেন।

রকিব উদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে গত ১০ বছরে কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস ও অকার্য্কর করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।