পথিক কিংবা ভবঘুরে ট্রাভেলার্সের চার সদস্যের তাজিংডং জয়

রায়হান ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

পথিক কিংবা ভবঘুরে ট্রাভেলার্স বাংলাদেশ গ্রুপের চার সদস্য জয় করল দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয়। গত ২ সেপ্টেম্বর তারা ঢাকা থেকে তাজিংডং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রথমে বান্দরবান পরে সেখান থেকে থানচি পৌঁছায় তারা।

এই সফরে অংশগ্রহণ করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মাশফিকুল হাসান টনি, আহসান হাবিব বিপু ও মাহমুদুর রহমান মুক্ত এবং উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাকিল মাহমুদ।

জানতে চাইলে রাবি শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, ভ্রমণে করতে কে না ভালবাসে? আর এই নেশাটা বুঝি আমাদের একটু বেশিই। তাই ঘুরতে ভালোবাসি বলে যোগ দিয়েছি ভবঘুরেদের দলে!

কিন্তু করোনা যেন স্তব্ধ করে দিয়ছে সকল দুরন্তপণাকে। দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে একটু সজিব নিঃশ্বাস নিতে মন আজ বড়ই উতলা হয়ে উঠেছে।

তাই আমরা পাঁচ ভবঘুরে বন্ধু মিলে যাত্রা শুরু করি তাজিংডং জয়ে উদ্দেশ্যে। এখানে পৌঁছাতে চলে আসি সর্ব পূর্বের উপজেলা বান্দরবানের থানচিতে।

সরকারিভাবে দেশের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ এর উচ্চতা ১২৮০ মিটার হলেও আধুনিক গবেষণায় এর উচ্চতা ৮৭১ মিটারের বেশি নয়। এবং সরকার স্বীকৃত দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলেও বেসরকারিভাবে তাজিংডং বিজয়ের স্থান অনেক পিছিয়ে।

তিনি জানান, আমরা থানচির ৯ কিলোমিটার নামক জায়গা থেকে হাঁটতে শুরু করি তাজিংডং-এর চূড়ায় পৌঁছার লক্ষ্যে। সেখান করে প্রায় ১১ কি:মি পাহাড়ি রাস্তা হাঁটার পর রাত ১২ টায় পৌঁছায় ১৯ কিলোমিটার নামক জায়গায় জুম ঘরে। যেটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ মিটার ওপরে।

সেখানেই রাত কাটায় আমরা। কিন্তু পথিমধ্যে শাকিল মাহমুদ শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে নি। এটা আমাদের খুবই মর্মাহত করেছে।

পরদিন (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটায় আবার হাঁটতে থাকি। প্রায় ২ ঘন্টা পাহাড়ি রাস্তায় ট্রাকিং করার পর সকাল ৭ টায় আমরা ৪ জন ও আমাদের গাইড মিলে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং এর চূড়ায় আরোহণ করি।

পরবর্তীতে দেশের সকলবৃহৎ পর্বতগুলোর চূড়ায় আহরণ করার ইচ্ছে পোষন করেন তারা।

উল্লেখ্য, পথিক কিংবা ভবঘুরে ট্রাভেলার্স হচ্ছে দেশের কিছু নতুন তরুণ ভ্রমণ পিপাসু ও পর্বতারোহীদের গ্রুপ। যারা বছরে দেশের বিভিন্ন পর্বতারোহণ করে থাকেন।