পর্যটনে গেলে পরিবেশ সচেতনতাও করতে হবে

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

আমাদের পরিবেশ আমরাই রক্ষা করবো।তাহলে পরিবেশ আমাদেরকে দিবে নির্মল জীবন। পৃথিবীর পুরোটাই আমাদের বড় ধরনের বাসস্থান। বাড়ি যেমন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়,তেমনি আমরা যেখানেই যাইনা কেন তার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। পরিবেশের দেখভাল করলে তা আমাদেরকে সার্বিক সুস্হ্যতা দান করবে।

বর্তমানে সারাবিশ্বের মানুষ ভ্রমণ করতে ভালবাসে। ক্রমান্বয়ে এর বিস্তৃতি ঘটছে।আমরা যারা ভ্রমণ করি সকলে পর্যটন স্হানসমূহের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকি।বিভিন্ন দেশের পর্যটন স্হানসমূহে পর্যটক এবং সংশ্লিষ্টরা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখে।এতে পর্যটন স্হানে বেড়ানোর পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।

বাহিরের দেশে গেলে আমরা এক টুকরা কাগজ ফেলতেও সামনে পিছনে তাকাই। অন্য আবর্জনা ফেলার কথা চিন্তাও করিনা।এর কারণ সেখানকার ব্যবস্হাপনাটাই ঐভাবে সাজানো। সেখানে ওয়াশরুম সহ সবকিছুই পরিপাটি করে সাজানো।যার ফলে পরিবেশ নষ্ট করার চিন্তাই মানুষ করেনা।

সিঙ্গাপুরে কিছুদুর পরপরই পরিপাটি ওয়াশরুমের ব্যবস্হা আছে।শুধু কি তাই ওয়াশরুমের কাজ সেরে পিছাঁতেই সাথেসাথে অটো ওয়াশ হয়ে যায়।আমরা যারা নতুন তারা ওয়াশ হওয়ার শব্দ শুনে অনেকের মাঝে হঠাৎ ভয়ের উদ্রেক হয়।আবার সেখানে পানি খাওয়ার ইচ্ছে হলে কলের সামনে মুখ নিতেই পানি মুখের মধ্যে ঢুকে পড়ে।ওয়াশরুমের মধ্যে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেও অসস্তি লাগবে না। যা আমাদের দেশে চিন্তাও করা যায় না।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল,ভুটানসহ প্রায় সকল দেশে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা সচেতন থাকে।

ভুটানের রাস্তার ধারে ধারে ডাস্টবিন স্হাপন করা আছে, আছে ব্যায়ামের জন্য বিভিন্ন ধরনের মেশিন। আবার কিছুদুর পরপরই ” নো লিটারিং” অর্থাৎ ” প্রশ্রাব করা যাবে না” এধরণের সাইনবোর্ড । ফলে কেহ রাস্তার ধারে প্রশ্রাব করার চিন্তাও করে না। প্রকৃত অর্থে সেখানকার মানুষ ছোটবেলা থেকেই এ শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে।এটিও মানুষের আচরণিক শিক্ষা, যা জাপানের শিশুদেরকে শিক্ষার শুরুতেই শিখানো হয়। বাহিরের দেশে আমাদেরকে বলতে হয় না, ঐখানকার পরিবেশই আমাদেরকে শিখিয়ে দেয়।

তাই আমরা বাহিরের দেশে যে আচরণ করি,নিজ দেশেও তা করা কর্তব্য। দীর্ঘদিন করোনার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পেরে পর্যটন স্হানসমূহ খুলে দেয়ায় এখন প্রচুর পর্যটক বেড়াতে বের হয়েছেন।বিদেশে না যেতে পারায় দেশে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট শিল্পেরও অর্থনৈতিক চাকা আবার সচল হয়েছে।

আমরা যারা ঘুরতে যাই, আমাদেরকে অবশ্যই পরিবেশ সচেতন হতে হবে। আমরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবো না। যেখানে সেখানে প্রশ্রাব করবোনা।কাগজের ঠোঙা, পানির বোতলসহ অন্যান্য বোতল নির্দিষ্ট স্হানে ফেলবো।ভুলেও নদী ও সাগরে ফেলবো না। অন্যকেও এগুলো মানতে উদ্বুদ্ধ করবো।

ধুমপান থেকে বিরত থাকবো এবং অন্যকেও ধুমপান না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করবো।পাহাড়,নদী, সাগর,পার্ক যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে ভ্রমণ আনন্দ দায়ক হবে।

সিঙ্গাপুরে জায়গায় জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানো আছে ময়লা ফেললে ১০০০ ডলার জরিমানা করা হবে।

তাই কেউ ফেলে না,আমি নিজেও বেড়াতে যেয়ে টুকটাক কাগজপত্র বেগের মধ্যে রেখে দিতাম।পরবর্তীতে নির্দিষ্ট স্হানে ফেলতাম।

আমরা জানি কিন্তু মানি না।পরামর্শ দিই কিন্তু নিজেও মানিনা।

আসুন আমি সহ সকলে পর্যটন স্হানসমূহ পরিষ্কার রাখি,ময়লা আবর্জনা না ফেলি,প্লাস্টিক বোতল ও পলিথিন নদী ও সাগরে না ফেলি।আমরা সকলে একটি সুন্দর বসবাস যোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলি।

ভ্রমণ হোক সুন্দর পরিবেশে, সুস্থ্য জীবনের জন্য।

লেখকঃশিক্ষাবিদ ও গবেষক।