পেঁয়াজের দাম কমাতে সরকারের নানা ছক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত বছরের পেঁয়াজের দর ছিল অনেক বেশি। তাই দেশের মানুষের মনে এখনো দগদগে ক্ষত হয়ে আছে। কিছু দিন ধরে আবারও অস্থির পেঁয়াজের বাজার।

অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এরই মধ্যে নানা ছক কষছে। এবার দরের লাগাম টানতে সর্বোচ্চ পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ জন্য তুরস্ক ও মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। তুরস্ক থেকে আমদানি করতে এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্র।

আমদানি করা এসব পেঁয়াজ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী রবিবার থেকেই এই বিক্রি শুরু হবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানান তিনি। পেঁয়াজের বাজার গেল বছরের মতো লাগামহীন হবে না বলে আশা করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মিনিস্ট্রি বাজার ফলোআপ করছে। আজকেই আমাদের মিনিস্ট্রি থেকে বেশ কয়েকটি টিম ইমপোর্টিং পজিশনগুলো, যেমন বেনাপোল ও হিলিতে যাবে। সেখানে দেখবে আমদানির কী অবস্থা। একটু দাম ভারতেও বেড়েছে, বন্যার কারণে চলাচলে সমস্যা হয়েছে।’

পেঁয়াজ আমদানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব চেষ্টা করছি। টিসিবি বড় পরিসরে নামছে। আগামী ১৩ তারিখ থেকে টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে। এবার আমরা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ ইমপোর্ট করব। আমরা ফুল মনিটর করছি, দেখা যাক।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। এবার ভারত কিন্তু বন্ধ করেনি। গত বছর বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছে। তবে ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা নতুন বাজার থেকে আমদানি করতে শিখেছি।

টার্কি, ইজিপ্ট, ইন্দোনেশিয়া থেকে গতবার পেঁয়াজ আসার কারণে এবারও আমাদের লোকজনের যোগাযোগ ভালো আছে। আমরা টার্কি থেকে আমদানির জন্য টেন্ডারও করেছি টিসিবির মাধ্যমে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আমাদের সচিবের কথা হয়েছে।

আমরা সব পথ খুলে দিতে চাই। যত দ্রুত ও বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা যায়, আমাদের তরফ থেকে সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ট্যাক্স প্রত্যাহারের আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন বেড়েছে, ফলে কৃষক কিছু দামও পেয়েছে। তার পরও আমাদের ঘাটতি রয়েছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টন। আশা করি, আগামী বছরগুলোতে উৎপাদন আরো বাড়বে। তবে এখনো নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের বাজারের ওপর।’

এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানি এবং সরকারের নানা আশ্বাসের পরও একটু একটু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা কেজি দরে, যা গত কয়েক দিনের চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি।

এই দাম এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। পেঁয়াজ ছাড়াও ভোক্তার অস্বস্তি কাটছে না আদা, রসুন, চাল, ডাল, তেল ও চিনির দামে। আগের বাড়তি দামেই স্থির রয়েছে এসব পণ্য।

তবে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে সবজি ক্রেতারা। গতকাল বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, একমাত্র পেঁপে ছাড়া ৬০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। এর মধ্যে বেগুনের দাম নামেনি ৮০ টাকার নিচে।

চলতি সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। শাকের আঁটির দামও গত সপ্তাহের মতো চড়া। লাউশাকের আঁটি কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়, বাকি সব শাক পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রেতারা ২৫০ গ্রাম মরিচ বিক্রি করেছেন ৪০ টাকায়। এক কেজি নিলে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রাখছেন।