প্রাথমিকের বাথরুমের ইট, দরজা ও রড বিক্রয়ের চেষ্টার অভিযোগ সভাপতির বিরুদ্ধে

হিলি প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার কলন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাথরুমের ইট, দরজা ও রড বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মর্তুজা ও পাশর্^বর্তী হাতিশোও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশাদ আলীর বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কমিটির আলোচনা ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সাজ্জাদ হোসেন সাজু।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কমিটির আলোচনা সভা ওশিক্ষা অফিসারের অনুমতি ছাড়াই কমিটির সভাপতি ও অন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলে উক্ত বিদ্যালয়ের বাথরুম ভেঙে বিক্রি করে দেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অবগত করেন। পরে তারা বিক্রিকৃত মালামাল পুনরায় বিদ্যালয়ে এনে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৪ অক্টোবর কমিটির মিটিং দেখিয়ে রেজুলেশন করে মালামালগুলো নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত দেখানো হয়।

উপজেলার কলন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সাজ্জাদ হোসেন সাজু জানান, বিদ্যালয়ের বাথরুম ভেঙে ফেলা হবে এবং ইট, রড ও দরজা বিক্রি করা হবে, এবিষয়ে কমিটির সভাপতি আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। পরে এবিষয়ে আমাকে অবগত করেন তারা। আমি বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, এটি সরকারি স্কুল, এখানকার সবকিছু সরকারি সম্পদ। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই সম্পদ ভাঙা বা বিক্রয় করতে পারে না। স্কুল কমিটির সভাপতি এভাবে প্রধান শিক্ষক বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্কুলের কোন কিছু ভাঙতে বা বিক্রি করতে পারে না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মর্তুজা আলী মন্ডলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কোন সম্পদ আমি বিক্রি করিনি। পুরনো বাথরুমটি ভেঙেছি এবং মালামালগুলো বিদ্যালয়ে রাখা আছে।

হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দুরন্ত নিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারকে জানিয়েছেন, তবে বাথরুমটি ভাঙার পর। সরকারি সম্পদ তারা এভাবে ভাঙতে পারে না। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম দুরন্ত নিউজকে জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি, তারা নিয়ম বহির্ভুত ভাবে কাজটি করেছে। তবে তারা ইট,রড় ও দরজা বিক্রি করেনি। কিন্তু কমিটির আলোচনা এবং সরকারি নিয়ম ছাড়া এগুলো ভাঙার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।