ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় ইবি উপাচার্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

আগামী ২০ শে আগস্ট শেষ হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর চার বছরের মেয়াদ। এর আগে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জন উপাচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাবকের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো উপাচার্যই নির্দিষ্ট মেয়াদ (৪ বছর) পূর্ণ করতে পারেনি। ১২ তম উপাচার্য হিসেবে এই প্রথম মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী।

মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেও নানা বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাড়িয়ে তিনি। ভর্তি ফি তিনগুণ বাড়ানো, নাজুক পরিবহন সেবা, গবেষনায় বাজেট কমতি, ভর্তি পরীক্ষায় বিতর্ক, নিয়োগ বানিজ্যে, সেশন জট, তদন্ত কমিটির আলোর মুখ না দেখা সহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ড. রাশিদ আসকারী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনি এক চিত্র দেখা গেছে।

গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. জহিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী উপাচার্যের প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেন। স্ট্যাটাসের কমেন্টে কৌশিক রাহাত নামে অপর এক শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর ব্যর্থতার বিষয় গুলো তুলে ধরেন।

কৌশিক রাহাত তার কমেন্টে লেখেন, আমার চোখে গত ৩-৪ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উন্নতির/তলানি থেকে উন্নতির কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে -২০১৭ সাল পর্যন্ত ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে ৩৫০০-৫০০০ টাকা লাগতো এখন উন্নতি/আন্তর্জাতিকীকরণের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে সেই ভর্তি লাফে ১৬০০০-১৮০০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে!

ভিসি, প্রো-ভিসি এবং ট্রেজারার স্যারের জন্য ৩ টা বিলাসবহুল কার এবং শিক্ষকদের জন্য ৮টা এসি বাস কেনার খবর চোখে পড়লেও এই ৪ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টি গাড়িও কেনার খবর আমার চোখে পড়েনি। ভাড়া বাসের বাণিজ্য এবং ছাত্রছাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ীভাবে নিজস্ব গাড়ি কেন যে কেনা হচ্ছেনা খুব জানতে ইচ্ছা হয়!

আর হ্যাঁ উন্নয়ন হয়েছে সেটা ৫৩৭ কোটি টাকার। একটু খোঁজ নিলেই জানা যাবে প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য একনেক থেকে বড় বাজেট পাস হয়েছিল। যেমনঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৪৮৫ কোটি, কুয়েট ৮৩৮ কোটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৩৬৪ কোটি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮০ কোটি সহ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের এ রকম বাজেট পেয়েছিল।

অথচ ৫৩৭ কোটির এই বাজেট থেকে উন্নয়নের খবর হিসেবে শুধু ভবন নির্মাণ আর ফুলের বাগানের খবর প্রচার না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য স্থায়ীভাবে ১৫-২০ টা দোতলা বাস কেনার খবর প্রচার করা যায় অনায়াসেই। অথচ এমন খবর চোখে না পড়লেও ফুলের গাছের খবর রোজই হয়।

কৌশিক রাহাত আরো লেখেন, বেশিরভাগ বিভাগে ল্যাব সুবিধা খুবই নগণ্য এবং রিসার্চের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ০.৫১% বরাদ্দ মানে ১% এরও কম। এরমধ্যে এই হাফ পার্সেন্ট বরাদ্দের হাফ পার্সেন্টও যথাযথ জায়গায় পৌঁছায় কিনা সন্দেহ আছে। ল্যাব ফ্যাসিলিটি না বাড়িয়ে বা রিসার্চের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে নেয়ার স্বপ্নটা দিবাস্বপ্ন ছাড়া কিছুই না।

শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ অসংখ্য বিতর্কিত খবরের শিরোনাম হওয়া সত্বেও ভিসি স্যারের খুব কাছের কিছু দায়িত্বপ্রাপ্তরা তদন্ত কমিটির খবরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে শাস্তির আওতায় আসেনি। যেভাবে অজস্র তদন্ত কমিটির খবর পাই কিন্তু সেভাবে তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতিগ্রস্তদের যথাযথ শাস্তির খবর তো পাইনা।

আর মাঝে মাঝে বিভিন্ন পত্রিকায় দেখি “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট জাদুঘরে/ চিড়িয়াখানায়” অথচ আমি এটাও জানি পাঁচ বছরের অনার্স-মাস্টার্স কোর্স হলেও সাড়ে সাত বছরেও ইবি’র ১২-১৩ সেশনের বেশ কয়েকটা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৭ বছর ২/৩ মাসে মাস্টার্স এর রেসাল্ট পেয়েছে!

নেতা-শিক্ষকের টেন্ডার বাণিজ্যের অডিও ফাঁস বা চাকরিপ্রত্যাশী-নিয়োগের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের ঘুষের দরকষাকষির অডিও ফাঁস বা ছাত্রী-শিক্ষকের অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও ফাঁস হওয়ার খবর নিত্যদিন আসছেই।

এছাড়াও শিক্ষক-ছাত্রীর অডিও ফাঁস হলে শুধুমাত্র শিক্ষকের নাম ঠিকই প্রকাশ পায় কিন্তু ছাত্রীর নাম বরাবরই অপ্রকাশিত থাকে!! শিক্ষক এর নাম প্রকাশ করে মান সম্মান যাচ্ছে সেখানে ছাত্রীর নাম প্রকাশ না করে ধোঁয়া তুলসী পাতা করে রাখার কি দরকার?

এইসব করে সিজিপিএ বাড়ানোর জন্য শিক্ষকের নিকট যেসব ছাত্রীরা নিজেকে স্বপে তাদেরও বিচার করা না হলে পরবর্তীতে অন্য আরেকজন শিক্ষকের সঙ্গে এমনটা করবেনা গ্যারান্টি কি? লোভাতুর শিক্ষকদের পাশাপাশি এই দুশ্চরিত্রা ছাত্রীদেরও বিচারের আওতায় আনা হোক। তার আশপাশে অনেক কীট আছে যাদের সবাই চেনে। অথচ তিনি তাদের বিরূদ্ধে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

কৌশিক রাহাতের প্রত্যুত্তরে আল আমিন ইসলাম লেখেন, ‘কৌশিক রাহাত হ্যা আমি মনে করি আবেগের কোন যায়গা নেই। আর কেউ যদি (সেটা যে কেউ হতে পারে) নুন্যতম দূর্নীতিও করে তাকে ছাড় দেওয়া উচিৎ না। এটা আমার ব্যক্তিগত মত।’

শিক্ষকদের শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে কৌশিক রাহাতের প্রত্যুত্তরে স্ট্যাটাস প্রদানকারী জহিরুল কে মেনশন করে যুবাঈর আহমদ আনন্দ লেখেন, ‘বন্ধু তেল যতোই দেও মাল ছাড়া কাজ হবে না। আর হুদাই রেকর্ড করো না তোমার ওই সো কল্ড ভালো ভিসি কয়েকদিন সাসপেন্ডের নামে এক স্যারকে হানিমুনের সুযোগ করে দিবে। কি দরকার এতো আরাম দেওয়ার এমনিতেই আমাদের স্যারেরা অনেক নবাবজাদা।হুদাই সাসপেন্ডর নামে কয়েকদিন ছুটি দিয়ে আরাম বারিয়ে দিবা।

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে ড. রাশিদ আসকারী জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে প্রত্যুত্তরে শোয়াইব হোসেন লেখেন, যাদের কে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন আর যাদেরকে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন তারা ব্যতিত ৭০% শিক্ষক কর্মকর্তা তিনাকে সাপোর্ট করেননা। কারণ একটায় তিনি বিশেষ গংদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা।

এছাড়াও ছাত্রলীগের কমিটির ব্যাপারে হস্তক্ষেপ, ছাত্রলীগে বিভক্তিকরন, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফোরাম, কর্মকর্তা সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠনে বিভক্তীকরনের অভিযােগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। উপাচার্য হিসেবে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে গেলেও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মনের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভগুলােকে প্রশমিত করতে তাে পারেননি উল্টো সেটা আরাে দ্বিগুন বৃদ্ধি করে রেখে গেছেন বলে জানান বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা।

দুরন্ত/২৮জুলাই/পিডি