বগুড়ায় জেএমবি’র ৪ সদস্য আটক অস্ত্র গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার

বগুড়া প্রতিনিধি :

বগুড়ায় চন্ডিহারা এলাকা থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির নব্য ৪ সদস্যকে আটক করেছে বগুড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে ৫০টির মত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা বানানো সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন বিপিএম পিপিএম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড ৭.৬৫ পিস্তলের গুলি, একটি দেশি তৈরি ওয়ান শুটার গান, দুইটি কার্তুজ, ৩টি অত্যাধুনিক বার্মিজ চাকু, ১টি চাপাতি, ১ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য (পটাশিয়াম ক্লোরেট), ২টি লাল টেপ, ৪টি ব্যাটারি, কিছু পরিমাণ তারসহ চারজন নব্য জেএমবির সদস্য আটক করা হয়েছে।

উক্ত জঙ্গিরা নাশকতার উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার চন্ডিহারা এলাকার একটি স্থানে সমবেত হতে যাচ্ছে। এমন নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনায় এবং বগুড়া পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা, বিপিএম(বার) প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটা চৌকস টিম ৭ নভেম্বর আজ শনিবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের চন্ডিহারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ (চার) জনকে উপরোক্ত অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ আটক করে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার তরশ্রীরামপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে নব্য জেএমবির আইটি শাখার সদস্য তানভীর আহম্মেদ ওরফে আবু ইব্রাহিম (২৫), টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর থানার জগতপোড়া এলাকার খন্দকার গোলাম সারোয়ারের ছেলে জেএমবি’র মিডিয়া শাখার প্রধান মোঃ জাকারিয়া জামিল (৩১), বর্তমান সে ৫৮/সি পশ্চিম রাজাবাজার, শেরে বাংলানগর ঢাকা, ময়মনসিংহ জেলা সদরের চকশ্যামরামপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে নব্য জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান (২৮) ও একই এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নব্য জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য মোঃ আবু সাঈদ (৩২)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের নব্য জেএমবির সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজেদের স্বীকার করে এবং এখানে মিটিং করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করতে চাচ্ছিল বলে জানায়।

গোয়েন্দা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মোঃ তানভীর আহম্মেদ ওরফে আবু ইব্রাহিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগের ছাত্র। এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে আশুলিয়াতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জঙ্গি পুস্তক, ইলেকট্রনিক্স ও ড্রেন তৈরির সরঞ্জামসহ তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উক্ত ঘটনায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা করা মামলায় সে পলাতক ছিল।

সে ড্রোন তৈরির মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যায়। অপরদিকে আসামি জাকারিয়া জামিল নব্য জেএমবি’র মিডিয়া শাখার প্রধান দায়িত্বশীল। জঙ্গি সংক্রান্ত অন লাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনাগুলোকে সে আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করে।

জামিলও আশুলিয়ার মামলার পলাতক আসামি। জঙ্গি আতিকুর রহমান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র। সে নতুন সদস্য এবং অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত। সর্বশেষ ব্যক্তি আবু সাঈদ যুদ্ধ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে ৫০টির মতাে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বােমা বানানো সম্ভব।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং সন্ত্রাস বিরােধী আইনের পৃথক পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।