‘বঙ্গবন্ধুর নাম সংবাদপত্রে ছাপাতে বাধা দিয়েছিল জিয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নন; বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শ, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। তিনি আমাদের জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন করতে চাই। সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কোন অগ্রগতি হতে পারেনা। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে কখনো পথ চলা যায় না।

প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ডিআরইউ আযোজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলেন বলেই স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ এ জায়গায় পৌঁছেছে। এদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। রাজাকার আলবদরদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবেনা। পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি দু’টি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দ্বারে দ্বারে গেছেন। জনগণের বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং তাঁর প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। সে দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, আমরা জয়যুক্ত হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাথে গণমাধ্যমের ভাল সম্পর্ক ছিল। সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ভাবনাকে আগলে রেখেছিলেন। এখনো আগলে রাখতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধিরা এখনো রয়েছে। ৭৫ এর পর বঙ্গবন্ধুর নাম সংবাদপত্রে ছাপাতে বাধা দিয়েছিল জিয়া সরকার। ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কোন প্রতিবাদ হয়নি-এটি সঠিক নয়।’

প্রতিবাদ হয়েছিল, তবে প্রতিবাদের ভাষা ছিল ভিন্ন। খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে টুঙ্গিপাড়ায় মাটিচাপা দিতে চেয়েছিল; সেটি তারা পারেনি। স্থানীয়দের প্রতিবাদের ফলে তাঁর গোসল, জানাজা শেষে দাফন করা হয়। অস্ত্রের মুখে প্রতিবাদ করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিলেন। বাকশাল একটি সরকারী রাজনৈতিক সংগঠন। ১৫ আগস্টের খুনিদের আড়াল করতে বাকশাল ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দি ডেইলি অবজারভার এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জার্নাল এর সম্পাদক শাহজাহান সরদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সময়ের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহনেওয়াজ দুলাল, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ডিআরইউ’র অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ এবং ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক হাবীবুর রহমান । ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বক্তারা গণমাধ্যমের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন।