বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে পারছেন না সালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনের জন্য গত তিন দিন ধরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা প্রার্থীরা বাফুফে ভবনে আজ তাদের প্রার্থীতার ফরম জমা দান সম্পন্ন করেছেন।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ আজ সাংবাদিকদের বলেন, বিগত তিন দিনে বিক্রি হওয়া ৪৯টি মনোনয়ন পত্রের সবগুলোই জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

সেখানে সভাপতি পদে তিনটি, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুটি, সহ-সভাপতি পদে আটটি এবং সদস্য পদে ৩৬টি ফর্ম জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এইসব মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে বলে জানান তিনি।

আগামী ৩ অক্টোবরের নির্বাচনের জন্য সভাপতি পদে আজ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি কাজী মো: সালাহউদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি বাদল রায় ও সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক।

বিগত ১২ বছর ধরে বাফুফের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিনকে এবারো অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের চেয়ারম্যান তরফদার রুহুল আমীন সভাপতির প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মনোনয়ন পত্র বিক্রির শুরু থেকেই করোনা মহামারিকে উপেক্ষা করে ক্রীড়ামোদীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বাফুফে ভবন। শুরুতে মনে হয়েছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সালাহউদ্দিন। কিন্তু শেষ মুহুর্তের নাটকীয়তায় জমে উঠে নির্বাচন। সভাপতি পদে তার বিপক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন সহ-সভাপতি বাদল রায় ও সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক।

অবশ্য বাদল রায় আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে সালাউদ্দিনকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছেড়ে দেবেন না। সেই কথারই প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বাদল রায়। তবে সবাইকে বিস্মিত করেছেন মানিক। কারণ এর আগে সভাপতি প্রর্থী হিসেবে একবারো উচ্চারিত হয়নি মানিকের নাম।

এমনকি মনোনয়ন পত্র কেনার আগমুহুর্তেও কেউ বুঝতে পারেননি তিনি সভাপতি প্রার্থী হবেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বাফুফের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কমিটির সদস্য শেখ মোঃ আসলাম।

সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের প্রার্থী হয়েছেন মুর্শেদী। ২১ সদস্যের বর্তমান কার্য্যনির্বাহী কমিটির ১৫জন এবার সালাউদ্দিনের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। আর বাকী ছয়জন নতুন মুখ। সহসভাপতি পদে আগের কমিটি থেকে সালাহউদ্দিনের প্যানেলে শুধুমাত্র কাজী নাবিল আহমেদ এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সেখানে ঠাঁই পাননি বাকী তিন সহ-সভাপতি বাদল রায়, মহিউদ্দিন মহি ও তাবিথ আওয়াল। প্রমোশন পেয়ে সালাহউদ্দিনের প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন আমিরুল ইসলাম বাবু।

বাকী দুইজন নতুন মুখ হচ্ছেন বসুন্ধরা কিংস এর সভাপতি ইমরুল হাসান ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক।সালাহউদ্দিনের প্যানেল থেকে সদস্য হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছে চার নতুন মুখ।

এরা হচ্ছেন আসাদুজ্জামান মিঠু (যশোর), কামরুল হাসান হিল্টন (সিরাজগঞ্জ), সৈয়দ রিয়াজুল করিম (ফকিরের পুল ইয়ংমেন্স ক্লাব) ও ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ (রহমতগঞ্জ এমএফএস)। বাকীরা বর্তমান কমিটিরই সদস্য।

সালাহউদ্দিনের প্যানেল:
সভাপতি : কাজী মো: সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, এমপি।
সহ-সভাপতি: কাজী নাবিল আহমেদ এমপি , আমিরুল ইসলাম বাবু, ইমরুল হাসান ও আতাউর রহমান মানিক।

সদস্য: মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ ফজলুর রহমান বাবুল, মোঃ হাসানুজ্জামান খান, জাকির হােসেন বাবুল, মোঃ রায়হান কবির, মোঃ সাইফুর রহমান মনি, হারুনুর রশীদ, মাহফুজা আক্তার (কিরন), সত্যজিৎ দাশ রূপু, মোঃ ইলিয়াছ হোসেন, বিজন বড়ুয়া, মোঃ ইকবাল হোসেন,অমিত খান শুভ্র , মহিউদ্দিন আহমদ সেলিম, জাকির হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ রিয়াজুল করিম, কামরুল হাসান হিলটন, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, মোঃ আসাদুজ্জামান মিঠু, মোঃ নুরুল ইসলাম (নুরু), শাকিল মাহমুদ চৌধুরী, সাইদুর রহমান মানিক।

আগামী ৩ অক্টোবরের নির্বাচনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৩৯জন ডেলিগেট।