বিভাগীয় শহরের এ কেমন রাস্তা!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের চায়না ব্রিজ ( ১৯৮৮ সালে তৈরি) থেকে টোল প্লাজা সংলগ্ন এই সড়কটির আলোচিত চরম বেহাল দশা যেন কখনো শেষ হবার নয় ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর কে অঞ্চলের বাদবাকি চারটি জেলাকে সরাসরি যুক্ত করেছে এই মহাসড়কটি । ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মহাসড়কটির চায়না ব্রিজ সংলগ্ন এই অংশ টি দিনরাত ২৪ ঘন্টা প্রবেশদ্বার হিসাবে গুরুত্বের দাবিদার বরং দিনকে দিন এই ভগ্ন , বেহাল সড়কের দুরাবস্থা যেন প্রবল হচ্ছে । সাথে উল্টো উটকো যন্ত্রণা হিশেবে যোগ হয়েছে সড়কের পার্শ্ববর্তী বর্জ্য স্থাপনা যার কোন কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আজ অবধি গড়ে ওঠেনি ।

বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর সড়কে যখন গাড়িগুলো দুলে ওঠে বিশেষত বৃষ্টিতে যখন দুরবস্থা চরমে ওঠে তখন ভুক্তভোগীরাই জানেন ( বিশেষত রোগী শিশু প্রৌঢ়) তাদের দুর্ভোগের কথা । এর ফলে যানবাহনের ধীরগতিতে যে যানজটের সৃষ্টি হয় সেটা ধীরে ধীরে ব্রিজ পেরিয়ে শহর অবধি বিস্তৃত হয় । সেই সাথে তীব্র ঝাঁকুনিতে ব্যস্ত সড়কে অনেক সময় যানবাহন বিকল হবার ঘটনাও ঘটে । ফলে বেশিরভাগ সময় দেখা দেয় এক কিলোমিটার বেশি অংশ জুড়ে যানজট ।

সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে সওজের কর্তারা মিডিয়ার কাছে সাফাই গেয়েছেন , এই মহাসড়কটি ভবিষ্যত ময়মনসিংহ – শেরপুর মহাসড়ক ৪ লেন প্রকল্পের আওতাভুক্ত হওয়ায় এখন তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভবপর নয় ! অসাধারণ যুক্তি বটে । বছরের পর বছর ধরে চলা জনদুর্ভোগের চেয়ে প্রজেক্টের রুলস বড় । এ যেন দায়িত্ব এড়ানোর ব্রহ্মাস্ত্র । কবে প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে আর কবে সংস্কার হবে ! এ যেন ছোট অসুখ কে সাইডে রেখে বড় অসুখের জন্য অধীর অপেক্ষা করা যাতে দুই অসুখের চিকিৎসা সাশ্রয়ী উপায়ে একত্রে করা সম্ভবপর হয় ! জবাবদিহি না থাকলে যা হয় আরকি ।

অথচ এই মহাসড়কটি দিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনেক ক্ষমতাধর রথী – মহারথী তাদের শুল্ক মুক্ত দামি গাড়ি হাঁকিয়ে চলেন । বিজ্ঞানের গতিসূত্র অনুসারে , জনসাধারণের গণপরিবহনের মতো-ই তাদের ব্র্যান্ড নিউ এসইউভি গাড়িগুলোও এই খানাখন্দের তীব্র ঝাঁকুনিতে বেসামাল হবার কথা । যদি তাই হয় তাহলে অন্তত এই সড়কটুকুর ব্যাপারে উপরিমহলে আর যাই হোক একটু হাঁকডাক করার কথা ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন , সত্তরের দশকে মালয়েশিয়া জুড়ে রাস্তাঘাট নির্মাণের টেন্ডার পেত ভারতীয় ঠিকাদারেরা আর নব্বই দশক থেকে মালয়েশিয়ান ঠিকাদার কোম্পানিগুলো ভারতীয় রাস্তাঘাট নির্মাণের কাজের অর্ডার পেতে শুরু করে । মাত্র দুই দশকে মালয়েশিয়ার সামগ্রিক অন্তর্নিহিত সক্ষমতা রূপান্তরের একটি ছোট অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ এটি ।

বাংলাদেশও অবশ্য পিছিয়ে নেই ! অন্তত এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক এখানে নির্মিত হয়। অবশ্য গুণগত মানের দিক থেকে তার অবস্থা দারিদ্র্য সীমারও নিচে । তাতে কি , আমাদের ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা এসব ব্যয়বহুল অথচ মানহীন সড়ক প্রকল্পের ওসিলায় ক্রমশ সম্পদশালী ধনী ব্যবসায়ী/ উদ্যোক্তো’র কাতারে নাম লেখাচ্ছেন । জাতি হিশেবে সেটাও কম গর্বের কথা নয়।