বিমানবন্দরে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারক চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন থার্ড টার্মিনালের সাইট ইঞ্জিনিয়ার পদে, মাসিক ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। এরকম অনেকেই আবেদন করেন। আর এভাবেই তারা পা দেন প্রতারণার ফাঁদে।

চাকরি পেতে এশিয়ান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে চাকরি দেয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটি অনেকের হাত থেকে হাতিয়ে নেয় অনেক টাকা। দেয়া হয় নিয়োগপত্রও।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পাওয়া কোরিয়ান কোম্পানি জানায়, ভুয়া নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এশিয়ান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি বা যোগাযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে কাজের জন্য নিয়োগ দেয়ার কথা বলে স্যামসাং কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ‘ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট’ দেখিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বনানী ২৭নং রোডের এ ব্লকের হাউজ নং-৪৫ এর ৬ষ্ঠ তলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি বলছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার মাধ্যমে সাড়ে ৩০০ চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে তিন কোটিরও বেশি টাকা। চাকরি দেয়ার নাম করে ক্ষেত্র বিশেষে একজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে চক্রটি। পলাতক রয়েছেন প্রতারণার মূলহোতা প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আশরাফ খান ওরফে সুলতান মাহমুদ। তবে গ্রেফতার হয়েছে ৫ কমচারী। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযানকালে সিআইডি ৫৩০ জনের নামের তালিকাও পেয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ৫/৬ জন ভুক্তভোগী সিআইডিকে অভিযোগ করেন যে, বনানী ২৭নং রোডের এ ব্লকের হাউজ নং-৪৫ এর ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত এশিয়ান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক আশরাফ খান এবং তার সহযোগীরা চাকরি দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করে ‘ভুয়া চাকরির’ নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন।

চাকরিতে যোগদান করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন ‘ভুয়া নিয়োগপত্র’ সরবরাহ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অফিসে কথা বলতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আশরাফ খান ও তার লোকজন তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে দেয়। অভিযোগ পেয়ে উল্লেখিত ঠিকানায় গিয়ে সিআইডির একটি দল আরও অনেক লোকজনের সমাগম দেখতে পায়।

তাদের সবাই অভিযোগকারীদের মতোই প্রতারণার শিকার। সবার কাছ থেকে ৫০ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করা হলেও চাকরি মেলেনি। অভিযানকালে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন মালিক আশরাফ খান। তবে অফিসে উপস্থিত বাকি পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ঢাকা শহরে তাদের মালিকের এই ধরনের আরও অফিস ও মেডিকেল চেক-আপ সেন্টার রয়েছে।