“বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২০”

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

সারাবিশ্বে গতকাল ৫ অক্টোবর পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই দিবসটি পালন করা হয়।

১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের অংগপ্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোের উদ্যোগে ২৬ তম অধিবেশনে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ড.ফ্রেডারিক এম মেয়র এ দিবস পালনের ঘোষণা দেন।প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বের প্রায় ১০০ টি দেশ এ দিবস পালন করে থাকে।

“এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ” ও এর সহযোগী ৪০১ টি সংগঠন দিবসটি পালনে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর সর্বপ্রথম শিক্ষকদের অবস্থা নিয়ে আন্তঃসরকার সম্মেলন হয়েছিল। সেখান থেকেই পরবর্তীতে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, এবং পেশার বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা করে ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও) দিবস পালনের বিষয়ে স্বাক্ষর করেন।

এ দিবসকে” ওয়ার্ল্ড টিচার্স ডে “, ” ইন্টারন্যাশনাল টিচার্স ডে” বা” আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস” নামেও পরিচিত।

প্রতিবছর একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে দিবসটি পালন করা হয়। যেমনঃ
২০১৬ সালে—” শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা, তাদের অবস্হার উন্নতি করা “
২০১৭ সালে—” শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন করা”
২০১৮ সালে—- শিক্ষার অধিকার মানেই একজন যোগ্য শিক্ষকের অধিকার “।
২০১৯ সালে—” তরুণ শিক্ষক, পেশার ভবিষ্যৎ “

আর এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলোঃ ” শিক্ষকঃ সংকটে নেতৃত্বদান, ভবিষ্যতের পুননির্মাণ “।

আবার কিছু কিছু দেশ তাদের মনোনীত নির্দিষ্ট দিন অনুযায়ী দিবসটি পালন করে থাকে।
আমাদের দেশে এবার যেন দিবসটি নিরবেই চলে যাচ্ছে। সরকারি কোন পদক্ষেপও তেমন দেখা যাচ্ছে না। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ( টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনের জন্য শিক্ষকদের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।কারণ এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষায় জনশক্তির উন্নয়ন অত্যাবশ্যক।

” শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড “। তাহলে এই মেরুদণ্ড যারা দৃঢ় রাখবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন,মর্যাদা, উন্নয়ন অপরিহার্য।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় আলোকপাত করলে বুঝা যায়,শিক্ষকরা সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।কিন্তু যারা সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিবে তারা যদি সংকটে থাকে তাহলে কি সংকটের নেতৃত্ব দিতে পারবে?