বেফাক সংকটে সমাধানের দাবিতে শীর্ষ ওলামারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কওমি মাদরাসায় সংকট থেকে উত্তরণের উপায় আলোচনা করতে শীর্ষ উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বেফাককে তাঁর সংবিধান মোতাবেক চলতে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন করেছেন বেফাকের সহ-সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

তিনি বাংলাদেশের সব কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা দয়া করে সরকারি অনুদান নেবেন না। সরকারি অনুদান নিলে কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা টিকবে না।

তিনি বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দের অষ্টনীতির ভিত্তিতে সরকার আমাদেরকে স্বীকৃতি দেবে, এমন কথা শুনেই আমরা স্বীকৃতি নিয়েছি। কিন্তু সেখানে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দেশের কওমি মাদরাসা দেওবন্দের আদর্শ মোতাবেক পরিচালিত হবে কথাটি থাকলেও অষ্টনীতি বা উসুলে হাশতেগানাহ শব্দটি নেই। এটাকে বিলোপ করে দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আমরা বেফাককে ভাঙনের জন্য এখানে ইসলাহী মজলিস করিনি। বরং বেফাকসহ কওমি সকল প্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে সেজন্য এই ইসলাহী মজলিসের আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলাহী মজলিসে চার দফা প্রস্তাব সর্বসম্মতি ক্রমে গৃহীত হয়। প্রস্তাবনা পাঠ করেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

প্রস্তাবগুলো হলো,

১. কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষার্থে ‘তাহাফফুজে ফিকরে দেওবন্দ’ শিরোনামে সারাদেশে আলোচনা সভা করা হবে।

২. দ্রুত সময়ের মধ্যে বেফাকের মজলিসে শুরা ও আমেলার বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

৩. ইসলাহী মাহফিল থেকে সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার জন্য ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংকট সমাধানের জন্য বেফাক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করবে।

৪. মাদরাসায় কাদিয়ানীদের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠি প্রেরণ ও তাদের অন্যান্য অপতৎপরতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর সঞ্চালনায় ইসলাহী মজলিসে বেফাকের সংকট কাটিয়ে উঠতে পরামর্শ ও ইসলাহীমূলক বক্তব্য রাখেন, আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।

সারা দেশের প্রায় দুই হাজার ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।