‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আরেকটু আন্তরিক হওয়ার দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসরকারি ব্যাংককে সরকারের দেয়া প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রদেয় ঋণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যাংক দিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও যদি এগিয়ে আসে তাহলে শুরুতে হয়তো একটু সমস্যা হবে। তবে, ব্যবসা-বাণিজ্য যদি শুরু হয়ে যায় সেরকারি ব্যাংকগুলোও লাভবান হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রণোদনা প্যাকেজে আমরা যে সব সুযোগ দিয়েছি তাতে অল্প সুদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তার একটি পদক্ষেপ রয়েছে। এ ব্যাপারে আমি মনে করি, আমাদের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আরেকটু আন্তরিক হওয়ার দরকার।’ সূত্র: বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যেহেতু প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ান, আমি বলব, এক্ষেত্রেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি) নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে এসব বলেন।

৩৫ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংগঠন বিএনবি’র পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আসন্ন শীত মৌসুম উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার পিস কম্বল প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এই অনুদান গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের এ সহযোগিতাকে ‘বদান্যতা’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘যখনই দেশে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক দেখা দেয় তখনই বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংক (বিএবি) নেতৃবৃন্দ মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের এ বদান্যতার কারণে আমরা মানুষকে অনেক সহযোগিতা করতে পারি। ’

তিনি বলেন, এবার যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে শীতের সময় এর প্রকোপটাও বেশি হতে পারে।

সেজন্য শীত আসার আগেই বিএবি নেতৃবৃন্দ কিছু শীতবস্ত্র তথা কম্বল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশী হয়েছি। কারণ, মানুষের কাছে আমরা এটা পৌঁছতে পারব এবং শীতে মানুষের উপকার হবে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব কিছুতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী স্থবিরতা নেমে আসার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের সাহস ও মনোবলের প্রশংসা করেন এবং করোনা মোকাবেলায় তার সরকারের সময়োচিত ও যথাযথ পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এটুক বলতে পারি আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করছি। কাজেই যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবেলা করার মতো বাংলাদেশের মানুষের মনোবল আছে এবং সাহস আছে।’

তিনি বলেন, ‘সেই সাহসিকতা নিয়েই এ দেশের মানুষ চলে, যে কারণে এই করোনাভাইরাস থাকার পরেও আমাদের অর্থনীতির চাকাকে আমরা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। তাছাড়া, আমরা যে প্রণোদনাটা দিয়েছি তাতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার মত প্রণোদনা পেয়েছেন। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশের মতো প্রণোদনা দিয়েছি। সেটা ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণকে অন্তর্ভূক্ত করে করা হয়েছে। যার ফলে কিছুটা হলেও মানুষ স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্যবসায়ীদের নানা প্রণোদনা এবং সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি বলেই এ করোনাভাইরাস যতটা খারাপ অবস্থা আমাদের অর্থনীতির করতে পারত সেটা পারে নাই। আমরা সেটা মোকাবেলা করে যাচ্ছি।

করোনার কারণে বাংলাদেশে তার সরকারের পরিচালনায় সাম্প্রতিককালে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কিছুটা কম হলেও সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপে পাঁচ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খাদ্য উৎপাদনে তার সরকার সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বার বার আসার পরও আজ আমরা ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমর্থ হয়েছি। ’

‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একান্তভাবে প্রয়োজন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রচলিত একটি প্রবাদ ‘পেটে খেলে পিঠে সয়’ উদ্ধৃত করে বলেন, তার সরকার সেটাই মেনে চলছে।

তার সরকারের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন- এ অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যতই বিদেশে রপ্তানি করেন না কেন, দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাটা বাড়াতে হবে। তাহলে উদপাদিত পণ্যের একটি বিশাল বাজার দেশেই সৃষ্টি হবে। ’

দেশে একসময় বর্তমানের মতো এত বেসরকারি ব্যাংক ছিল না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘অনেক বাধা বিঘ্ন ছিল, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তি ছিল বরং ব্যাংকের অলাভজনক শাখাগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও পরামর্শ ছিল কিন্তু আমরা তা শুনিনি। ’

তিনি কারণ হিসেবে বলেন, দেশটা আমাদের এবং আমরা জানি দেশের উন্নতি কীভাবে করতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে সবসময় সচেতন। সে কারণে আামি ব্যাপকভাবে প্রাইভেট ব্যাংক দিয়ে দিয়েছি বলেই আমার সব থেকে লাভ যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেওয়ার সময় নীতিমালাতেই ছিল রাজধানীর বাইরে শাখা করতে হবে এবং সামাজিক সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি ব্যাংকও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যে কারণে, যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের জন্য সহজ হচ্ছে। আবার তারা নিজেরাও করছেন। ’

দুরন্ত/২৮অক্টোবর/পিডি