ভূমি খেকো চক্র হামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সহ আহত ৩

মোশাহিদ আলী, ছাতক প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতকে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাসা ও দোকান কোঠা জোর পূর্বক জবর দখলে মরিয়া একটি ভূমিখেকো চক্র। বাসার মালিকসহ পরিবারের সকল সদস্যরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার সুযোগে ভূমিখেকো চক্রটি বেশ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, ছাতক পৌর শহরের দক্ষিণ মন্ডলীভোগ এলাকার মন্ডলী ভোগ মৌজার জেএল নং-২১৭ এসএ খতিয়ান নং-৭৬ ও দাগ নং-৪৭৪ এর ২২ শতক ভূমির উপর একতলা বাসা (জাহানারা মঞ্জিল) এবং পাশে দোকান কোঠা রয়েছে। এসবের ক্রয় সূত্রে মালিক জাহানারা বেগম।

তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ এলাকার গোয়ালখুরী গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত শানুর মিয়ার স্ত্রী। শানুর মিয়া ও জাহানারাসহ স্ব-পরিবারে বসবাস ছিল যুক্তরাজ্যে। মাঝে মধ্যে দেশে আসলে তারা এ বাসাতে উঠতেন এবং বসবাস করতেন। এ জাহানারা মঞ্জিলসহ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৌলা এলাকার বদরুল আলম পক্ষের সাথে জাহানারা বেগমের বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় ৪মাস আগে জাহানারা বেগম মারা যান।

৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহানারা মঞ্জিল দখলে নেয়ার জন্য সংঘবদ্ধরা বাসার দেয়াল ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তাদের বাঁধা দিতে এসে কেয়ারটেকার আবদুল আহাদ ও সমুজ মিয়া নামের দু’জন আহত হয়।

এ ঘটনায় মৃত জাহানারা বেগমের আত্মীয়, উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের কমর আলীর ছেলে মো. এহিয়া বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর বৌলা এলাকার মৃত ইলিয়াছ আলীর ছেলে বদরুল আলমকে প্রধান আসামী করে ১৪জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা (নং-১২) দায়ের করেন।

এ মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ ফয়ছল আহমদ, মঈনুল মিয়া ও রহিম হোসেন নামের ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেন।

এদিকে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করার পর ওইদিন তারা জামিনে মুক্তি পায়। বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মন্ডলীভোগ ছোরাবনগর এলাকায় গেলে বদরুল আলম ও তার পক্ষের লোকজনের হামলায় আহত হন কালারুকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল হক, আশিক আলী ও সিএনজি অটো-রিকশা চালক আবদুর রহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

খবর পেয়ে থানার এসআই ইয়াছিন মিয়া মুন্সির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাহাঙ্গীর আলম, বাইরুল ও রুহুল আমীন নামের ৩জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছেন। এসআই ইয়াছিন মিয়া মুন্সি তিনজনকে আটকের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৌলা মহল্লার বদরুল আলম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ জমি তার দখলকৃত এবং হাইকোর্টের রায় প্রাপ্ত। গভীর রাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল হকের নেতৃত্বে দেশীও অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহত নজরুল হক বলেন, তাদের কাছে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য গিয়েছিলেন হামলা বা বাসা-জমি দখল করতে নয়। সিএনজি অটো রিকশা থেকে নামার পর বদরুল আলমসহ তার পক্ষের লোকজন অতর্কিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা করে তাদেরকে গুরুতর আহত করেছে।

থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশ ৩জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসীর বাসা ও জায়গাটুকু ভূমিখেকোদের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন মামলার বাদী মো. এহিয়া।