ভোজ্যতেলের দাম বেশি থাকায় নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে

সম্পাদকীয়:

দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আবারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে কয়েক দফা বাড়ল এ নিত্যপণ্যের দাম। আমরা জানি, রমজান মাসে তেলের ব্যবহার বেড়ে যায়।

তাই এ সময় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরেই এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রমজান সামনে রেখে বাজারে যৌক্তিক মূল্যে ভোজ্যতেলের সরবরাহ যেন নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে বাজারে টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য হলো, কোনো দুষ্টচক্র যাতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, গত ৩০ দিনের ব্যবধানে ১৪টি পণ্যের দাম বেড়েছে। এসব পণ্য কিনতে নিু আয়ের ভোক্তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো- প্রথাগত সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুতের মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং।

রমজানে বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে এ জন্য কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে তৎপর থাকতে হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়টি নতুন নয়। কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির সুযোগ পাবে না এটা আশা করা যায়। এ ছাড়া আরও যেসব কারণে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে সেগুলোও চিহ্নিত করে আগে থেকেই নিতে হবে ব্যবস্থা।

এ চক্রের শক্তির উৎস খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করতে হবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো কতটা স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আসন্ন রমজানে সব ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ীরাও আন্তরিক হবেন, এটাই প্রত্যাশা।

দুরন্ত/১৮মার্চ/পিডি