ভয়ভীতি-শঙ্কার মধ্যে দেশে দেশে উদযাপিত হয়েছে ঈদ

দুরন্ত ডেস্ক:

করোনা মহামারির মধ্যে বিদায় নিল আরও একটি রমজান মাস। এল খুশির ঈদ। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে সংক্রমণের ভয়াবহতা, নানা বিধিনিষেধ আর ফিলিস্তিনিদের রক্তবন্যায় এ বছর ঈদের খুশি অনেকটাই মলিন।

পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে সৌদি আরব। করোনার প্রকোপে গত বছর ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি দেশটি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদের দিন কারফিউও দেয়া হয়েছিল সেখানে। তবে এ বছর পরিস্থিতি বদলেছে। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে সৌদির লোকজন।

বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে আলজেরিয়া, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, বাহরাইন, ইরাক, কাতার, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান। এর মধ্যে বেশ কিছু দেশ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঈদের ছুটি চলাকালে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মুখে ইরাকে গত বুধবার থেকে ১০ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মিসর। সেখানে এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। ১৬ মে পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে তিউনিসিয়া।

অবশ্য সংক্রমণের হার কমে আসায় কিছু দেশে কড়াকড়ি শিথিলও করা হযেছে। এর মধ্যে জর্ডান অন্যতম। দেশটিতে ঈদের দিন থেকে রাত্রিকালীন কারিফিউয়ের সময় সীমিত করা হয়েছে। ঈদ উদযাপিত হচ্ছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভারত ও চীনের কয়েকটি এলাকাতে।

করোনা মহামারির কারণে বুধবার থেকে আগামী ৭ জুন পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ জনকে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়াতেও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আন্তঃশহর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা চলছে সেখানে। নির্দেশনা কার্যকর করতে শহরের সীমান্তগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার নিরাপত্তা সদস্য।

বেশ কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপন করছে পাকিস্তান। এ বছর দেশটিতে করোনার ভয়ে খোলা ময়দানে ঈদের জামায়াত আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঈদ উদযাপিত হচ্ছে ভারতের কেরালা এবং কাশ্মীরের বেশ কিছু এলাকাতেও। করোনার হানায় টানা চতুর্থবারের মতো কাশ্মীরে কোনো ঈদের জামায়াত হচ্ছে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে একপ্রকার লকডাউন শুরু হয়েছে সেখানে।

এ বছর সবচেয়ে আলোচিত ঈদের জামায়াত হয়েছে জেরুজালেমের পবিত্র আল আক-আকসা মসজিদে। ইসরায়েলিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা-সহিংসতা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটিতে হাজির হয়েছিলেন এক লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা ও আল-আকসায় তাণ্ডবের জেরে এ বছর ঈদুল ফিতরের সব আয়োজন বাতিল ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এরপরও বৃহস্পতিবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটিতে ঢল নামে মুসল্লিদের।

সূত্র: আরব নিউজ, ডয়েচে ভেলে, আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

দুরন্ত/১৪মে/পিডি