মসজিদে বিস্ফোরণ: শোকে স্তব্ধ নারায়ণগঞ্জবাসী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

মোহাম্মদ ইমন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলেন আরো দুজন। এ নিয়ে ২৩ জনে দাঁড়ালো মোট মৃত্যুর সংখ্যা। ফতুল্লার তল্লা এলাকার চারদিকে শোকের মাতম।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরবেলার মধ্যে সর্বশেষ মারা যান শামীম হোসেন (৪৮) এবং জুলহাস উদ্দিন (৩০)। রাজধানী ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধদের মধ্যে বর্তমানে আরো যারা ভর্তি আছেন, তাদের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী ফতুল্লায় মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় যে ৩৭ জন রোগীকে বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার মধ্যে মারা যান ২১ জন।

বিস্ফোরণে মারা যাওয়াদের মধ্যে মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম ও দুই শিশু রয়েছে। মৃত অন্যরা হলেন- ইমাম আবদুল মালেক (৫৫), মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুবায়ের (৭), মো. মিজান ওরফে নিজাম (৪০) ও নাদিম (৪৫), রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), রাশেদ (৩০), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), জুনায়েদ (১৭), মো. বাহাউদ্দীন (৫৫), জামাল (৪০), জুয়েল, রাসেল (৩৪), নয়ন (২৭), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), মাইনউদ্দিন (১২) ও বাহারউদ্দিন (৫০)।

উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় এশার জামাত শেষে মোনাজাত করার সময় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন। বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে যায়। জানালার কাচ উড়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বলা হচ্ছে, এসি বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটে। আবার গ্যাস লাইনের সমস্যা থেকেও এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও অনেকে ধারনা করছেন।