“মাস্ক পরো, করোনা নিধন করো”

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

মাস্ক! মাস্ক!! মাস্ক!!! ৮ মার্চ ২০২০ করোনা সর্বপ্রথম বাংলাদেশে মহামারী বেশে আগমণ করে। ১৮ মার্চ ২০২০ একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃত্যুর মিছিলের যাত্রা শুরু। অদ্যাবধি সনাক্তকরণ ও মৃত্যু দুইটিই সমানতালে চলছে। সরকার মহামারী প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছেন। জীবন ও জীবীকার প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে পূনরায় কর্মক্ষেত্রে যোগদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে সবকিছু সচল করা হয়েছে। শর্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

হাট-বাজার, কলকারখানা, মসজিদ, মন্দির সবখুলে দেয়া হয়েছে।যার ফলে জীবন ও জীবীকা গতি পেয়েছে। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনেকেই মানতে চায় না। যার ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সারাবিশ্বে করোনার দ্বিতীয় দাফট চলছে।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী শিতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কিন্তু আমরা সতর্ক হচ্ছি না। জনগণের ভাবটা এমন যেন দেশে করোনা বলতে কিছুই নেই। অথচ প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যু সমানতালে চলছে।

হাট-বাজার , শপিংমল, রাস্তাঘাট সর্বত্র মানুষের বেপরোয়া চলাচলে বুঝা যায় না যে দেশে করোনা আছে।

পহেলা অক্টোবর’২০ পর্যন্ত সারাবিশ্বে ১০ লক্ষ মানুষের দুঃখজনক মৃত্যু ঘটেছে। আর করোনা ভাইরাস মহামারীতে বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ পেরোনের ঘটনাকে একটি ” দুঃখজনক মাইলফলক ” ” হ্রদয়বিদারক মাইলফলক ” ” মর্মান্তিক মাইলফলক ” ” পীড়াদায়ক মাইলফলক ” ” মন- অসাড় করা মাইলফলক ” হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ।

উপরের বক্তব্যকে অনুসরণ করে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। না হলে কঠিন মাশুল দিতে হবে। এমতাবস্থায় করোনার বিস্তার, চাকরি খোয়ানো,শিক্ষা ব্যাহত হওয়াসহ বিপর্যয়কর অবস্থা নিকট সময়ে শেষ হওয়ার লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।

এ রোগে যারা সুস্থ হচ্ছেন তারাও বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বিপর্যস্ত। তাই সতর্কতাই একমাত্র উপায়।

ভ্যাকসিন নিয়ে সারাবিশ্বে গবেষণা চলছে। পরিক্ষা- নিরীক্ষায়াও এগিয়ে চলছে। ভ্যাকসিন পাওয়াও সময় সাপেক্ষ। আবার সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হওয়া আরও সময় সাপেক্ষ।

তাই ভ্যাকসিন আসুক আর না আসুক আমাদেরকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

সকলে আমরা বারেবারে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করব। নাক মুখ ঢেকে হাঁচি- কাঁশি দিব।

ঘরের বাহিরে গেলে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখবো। ঘরের বাহিরে মাস্ক পরিধান করবো।

পরিশেষে, সৃষ্টিকর্তার নিকট আরাধনা আমাদেরকে যেন করোনামুক্ত জীবন দান করেন।

-অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ।