মায়ের প্রতি ভালোবাসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

জন্মদাত্রী মাকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আসলে তার কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখা হয় সন্তানের। আর সেই মায়ের কোলে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে প্রাথমিক অনেক শিক্ষা সাধারণত মা-ই দিয়ে থাকেন। মা আর সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন।

কবি কালিদাস রায় তার ‘মাতৃভক্তি’ কবিতায় বায়েজিদ বোস্তামী মাতৃভক্তির যে অসামান্য চিত্র অঙ্কন করেছেন সেই দৃশ্যটি অনেকের মনের পর্দায় ভেসে ওঠে এখনো।

যে সন্তান মায়ের ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় জলভর্তি গ্লাস হাতে করে সারা রাত ঠাই দাঁড়িয়ে থাকেন, এমন দৃশ্য বাস্তবে নিতান্তই বিরল! কিন্তু এই দুইপক্ষের মধ্যে ভালোবাসা আদিকাল থেকেই ছিল এখনো আছে। এমনকি প্রায় সব ধরনের প্রাণীদেরই মা-সন্তানের মধ্যে অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।

রবিবার (৯ মে) বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই তাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্ট করছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, অভিনেতা, ক্রিকেটার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী, গৃহনীসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের আবেগঘন পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন মায়ের মিষ্টি মধুর ছবি।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তার ভেরিফাইড পেজে লিখেছেন, We wish you always lead a happy life with a cheerful smile! Happy Mothers Day! সব মায়ের জীবন হোক সুখের। সব মায়েদের হাসিতে এই পৃথিবী হোক আরও সুন্দর। সবাইকে মা দিবসের শুভেচ্ছা।

সাকিব তার মায়ের হাতে চুমু খাচ্ছেন এমন একটি ছবির সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের আরেকটি ছবি যুক্ত করে পোস্ট করেছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে মায়ের ছবি পোস্ট করেছেন। অন্যদিকে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার লিখেছেন, জীবনযুদ্ধে কখনো পরাজিত না হওয়া ‘মা’ নামক যোদ্ধাদের জানাই বিশ্ব মা দিবসের শুভেচ্ছা-#HappyMothersDay।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক মোস্তফা কামাল লিখেছেন, আমার কাছে মনে হয় প্রতিদিনই মা দিবস। প্রতিমুহূর্তে মায়ের কথা মনে পড়ে। সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনায় মা পাশে থাকেন। এখনো মায়ের কাছে আমি শিশু। কাছে পেলেই বুকে টেনে নিয়ে আদর করেন। দুই গালে চুমু দেন। এই তো মা!

মোস্তফা কামাল ফেসবুকে আরও লিখেছেন, মাকে নিয়ে ১৯৮৬ সালে আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম। তখন মাকে নিয়ে আমার আবেগ অনুভূতির প্রকাশ ঘটে এই কবিতায়। আজ মা দিবসে সেই কবিতাটিই হুবহু আমার বন্ধু, সুহৃদ ও পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরলাম-

‘মা মোদের প্রাণের জননী/কিন্তু যেন ভাই,/মায়ের মতো আপনজন/ত্রিভূবনে নাই।/মা দুঃখিনী মোর কত কষ্ট করে/দশমাস দশদিন গর্ভে ধরে,/পিঁপড়ার ভয়ে রাখে বুকে করে/ কত না যতন করে!/ক্রমেই মোরা বড় হয়ে উঠি/মায়ের ছোঁয়া পেয়ে,/সবল সুস্থ সুগঠিত হই/মায়ের দুগ্ধ খেয়ে।/কাদা আর বালি ধূলিকণা যত/লেগে থাকে মোদের গায়,/তারি সাথে মা কোলে তুলে লয়/ঘৃণার দিকে নাহি চায়।/শুকনো জায়গায় শোয়ায় মা মোদের/নিজে শোয় ভেজাতে,/সকল কষ্ট নিজেই করে/দেয় না মোদেরকে বুঝতে।/আদর সোহাগে বড় হয়ে উঠি/মা মধুর করে ডাকি।/মায়ের বুকে মাথা রেখে মোরা/কত না স্বপ্ন আঁকি।/প্রাণ খুলে মা হাত তুলে তার/দোয়া করেন মোদেরকে,/মানুষের মতো মানুষ হই যেন/সজাক করি পৃথিবীকে।/মায়ের আশীর্বাদে বড় হই মোরা/মানুষ হই জীবনে,/এ মায়ের কথা ভুলব না মোরা/যতদিন বেঁচে থাকি ভুবনে।’

অভিনেতা স্বাধীন খসরু লিখেছেন, আমার মা চলে গেছেন আগেই। পৃথিবীর সকল মা’কে শ্রদ্ধা, সালাম, আদাব।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল বাকিয়া লিখেছেন, মমতাময়ী মা, তোমার কাছে কি-না পেয়েছি। আমার ছায়ায় সবসময় তুমি। চলার পথের পথিক। সাথী তুমি সবসময় কেমন করে চলে আস। ভেবে অবাক হই। এই বুঝি মা। সব মা-ই যেন শুধুই মা। নাই তার তুলনা। এই দুনিয়ায় নয়ন মেলে মা গো তোমায় দেখেছি। তোমার মাঝে এ জীবনে সবই পেয়েছি। মা আমার মা। সোনা মা আমার। কোথায় রাখি তোমায়। মা, মা, মা।

শিক্ষার্থী রায়হান উর রাফি তার মা-বাবার সঙ্গে শিশুবেলার ছবি দিয়ে লিখেছেন, আজ বিশ্ব মা দিবস। আব্বু-আম্মুর কোলে আমার ছোটবেলার একটা বিশেষ ছবি দিলাম (যদিও এখনো বিশেষ বড় হইনি)।

প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবস পালন শুরু হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামে এক নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন।

ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া, জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।

দুরন্ত/৯মে/পিডি