মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের মৃত্যুতে পরিবেশ মন্ত্রীর শোক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি।

মন্ত্রী আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

পরিবেশ মন্ত্রী জানান, মৌলভীবাজারের সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহ সৃষ্টিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নং সেক্টরের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ও কমান্ডার হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য আজিজুর রহমানের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডার হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। সংবিধানের অন্যতম স্বাক্ষরকারী আজিজুর রহমান ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মর্মে মন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মৌলভীবাজার জেলা শাখার দুই বারের সাধারন সম্পাদক ও দুই বারের সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার জেলায় ১৪ দল ও মহাজোটের সমন্বয়কারী হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অসামান্য অবদান দল অনেকদিন মনে রাখবে।

অকৃতদার এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৌলভীবাজারে শিক্ষা বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, মৌলভীবাজার শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে তাঁর অবদান মৌলভীবাজারবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। ২০১১ সাল থেকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং ২০১৬ সাল থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান(৭৭) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় এনে গত ৫ আগস্ট বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি করা হয়।