শতবর্ষী অন্ধকার..

শারমিন সুলতানা তন্বী:

সে দৃশ্যে একটানা আর্তনাদ করেছিল একটা মাঝ বয়সী কুকুর। দলবল নিয়ে ঘটনাস্থল আক্রমণ করতে রাতভর আস্তাবল ছাড়া ঘোড়ার মতো দৌড়ালো
নিজস্ব মানচিত্রের উত্তর থেকে দক্ষিণে।
কাউকেই খুঁজে না পাওয়ায়
কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারল না সে। অপমানে অপারগতায় ঝাপ দিল হিম শীতল রাতজাগা জলে।
স্তনপায়ী মানুষেরা সব তখন নাসিকা গর্জনে অন্তপ্রাণ।

এরপর সড়কের হৃদপিণ্ড চিৎকার করে বলে উঠল,
আমি পুরোনো কালের কলকব্জায় নতুন প্রলেপ দিয়ে দিয়ে আরো কয়েক’শ কাল কাটিয়ে দেব, আমায় নাও।
আমার দৈর্ঘ্য শেষ হওয়ার নয়, তুমি অনাদী কাল উন্মুক্ত করো। আমি শেষ হবনা।
প্রথমে নিজেকে উৎসর্গ করতে পা বাড়িয়েছিল মরিয়া খে চর এক,
সাদা কালো শরীরটায় রঙ মেখে সেজেছিল ডাকসাইটে পাতাবাহার।
ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে বলেছিল,
আমি ভুলে যাব আকাশের সব গুলো গলি, আমাকে নখের ধারে বেঁধে তুমি পাড়ি দিও মহাপৃথিবী!
কাজ হচ্ছে না তাতেও দেখে হাওয়া ছেড়ে দিল তার শিবরাত্রির সলতে, তাহার চিবুক জুড়ে শুকনো জলের পিচ্ছিল গতিপথ,
যে পথে একলা বসে কেঁদেছিল শত গ্রীষ্মের আগুন ঝরা অর্ধাঙ্গী।
অসভ্য ভঙ্গিমায় শাড়ি মাড়িয়ে, বের করেছিল একালের নাভি।
তবুও কচি কলাপাতার জলসাঘরে ঘুঙুর পরে নেমেছিল বাইজির ঝাপসা মুখ, অবিকল বিকৃত হাসি দিয়ে যায় মৃত্যু হয়েছিল মানুষের পাড়াগাঁয়ে।
শুক্লা দ্বাদশী’র দিন বলে উৎসবে খেলে উঠা জোছনারাও ভীড়েছিল পড়শির ঘাটে। স্নানরত নিয়তিকে দেখে কী ভীষণ অংক কষে অনাবৃত করেছে নিজেরই ব্যাসার্ধ কে।
তবু অমাবস্যর
শকুন চোখ সদ্য ফুটে উঠা ঘাসফুল টার দিকেই।

এত এত বিদ্রোহ! চারদিক থেকে কাফন মাথায় খালি পায়ে বাইরে নেমেছে একদল অন্ধকার, চোখ জোড়ায় কাপড় আর ঠোঁটে বিষ মেখে।

অসুর-দেবতা সবাই একযোগে অপেক্ষায়, কি হয়! কি হয়।
প্রকম্পিত সৌরজগত, গ্রহ-তারা
পরস্পরে জড়িয়ে কাঁপছে,
সাপেদের ঘুম ভেঙে গেসে, বেড়িয়ে পড়ছে সময়ের গহ্বর থেকে।
শীতল সংসার পতঙ্গের,
তাতে মধ্যরাতে আগুন লেগে গেছে..

তারপর-
হত্যাকাণ্ডটি ঘটার পর-
ধর্ষিত স্বাধীনতা আমার
রক্তে মুখ ধুয়ে
বেওয়ারিশ লাশ থেকে
সহচরীর ছেড়া ওড়নার নকশা করা পাড়টা খুঁজে নিয়ে স্বপনের কাটা টুকরো গুলো জোড়া লাগিয়ে দেখে-
ওখানে আমার বাংলা মরে পড়ে আছে,
ইতোমধ্যে ও দেহে পচন ধরেছে।
কেউই আর বাঁচাতে পারেনি
হতভাগী তাকে।