শিক্ষায় করোনার প্রভাব

অমিতাভ হালদার:

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারনে পুরো পৃথিবী জুঁড়ে বিরাজ করছে স্থবিরতা ৷ জরুরী হয়ে পরেছে সামাজিক দুরত্বকে প্রাধান্য দেয়ার বিধান ৷ ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে সকল অফিস,আদালত থেকে শুরু করে সকল কাজ-কর্ম ৷ এখন মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা হয়ে গেছে দায় ৷ খেটে খাওয়া মানুষ গুলো জীবিকা নির্বাহ করতে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে দিনকে দিন ৷

এই মূহুর্তে তারা কি করে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবে? কিভাবে পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারবে এসব দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা ?

প্রাঞ্জল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ৷ এর ফলে বিশ্বের ৯৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনেস্কো ৷ যেখানে একটি জাতির ভাগ্য লিখিত হয় শ্রেণি কক্ষের অভ্যন্তরে সেখানে ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় জাতির জন্য সৃষ্টি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ ৷ শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরী হয়েছে লার্নিং লস ৷

এদিকে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ক্ষতি অপূরণীয় বলে মত করেছেন বিশেষজ্ঞরা ৷ আজ থেকে প্রায় ছয় মাস আগে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় একরকমের ছন্দপতন ঘটায় এ মহামারী ৷

নতুন বইগুলোর প্রতিটা পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের হাতের স্পর্শ পেতে না পেতেই মাত্র তিনমাসের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৷ এতো ভোগান্তিতে পরে দেশের কেমলমতি শিক্ষার্থীরা ৷ দীর্ঘ বন্ধের ফলে শেখা জ্ঞানটুকুও হারাতে বসেছে তারা ৷

এদিকে সিস্টেমের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেশের পড়ুয়াদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী উদাসীনতা ৷ এর পিছনে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না ৷ কারণ,এর আগে কখনো এরকম পরিস্থ্তির সম্মুখীন হয়নি শিক্ষা সিস্টেম ৷

এ বিষয়ে কারোরই পুর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না ৷এদিকে দরজায় করা নাড়তে নাড়তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৷ এতে শিক্ষায় তৈরী হয়েছে প্রতিবন্ধকতা ৷

করোনা শুধু মাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপর নয় বরং মানসিকতার উপর দারুন প্রভাব ফেলছে ৷ এটি এখন শিশু কিশোরদের সামাজীকরনের প্রধান অন্তরায় বলা যায ৷মিথস্ক্রিয়ার অভাবে তাদের একঘেয়েমিতা বেড়ে চলছে যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে ৷ তাই এ দীর্ঘ ক্ষতি পুষিয়ে আনতে চাই সঠিক পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন ৷ নিম্নে যার কিছু তুলে ধরা হলো ৷

১. কমিউনিটি বেইজড কারিকুলাম: বিশেজ্ঞরা মনে করেন বর্তমান কারিকুলাম করোনার পরে গতানুগতিক হপে না ৷ তাই এরকম কারিকুলাম প্রয়োজন যেনো যতটুকু দরকার ততটুকু শিক্সার্থীরা পায় ৷ অপ্রয়োজনীয় অংশটুকু বাদ দিতে হবে ৷

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন, ফি সহ অন্যান্য খরচ যত সম্ভব কমাতে হবে ৷ তা না হলে শিক্সার্থীদের ঝড়ে পড়ার হার কমানো যাবে না ৷ অন্যদিকে দরিদ্রদের বিণামূল্যে পড়ানো অথবা তাদের খরচ সরকারকে বহন করার উদ্যেগ নিতে হবে ৷

৩.সরকারের দিক নির্দেশনা মতো শহর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ৷ গ্রামের ক্ষেত্রে স্লো ব্যান্ড ইন্টারনেট দুুর করা আবশ্যক এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস দিতে হবে ৷

৪. অস্বচ্ছল পরিবারের অবিভাবকদের সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে এই শর্তে যে তাঁদের সন্তানেরা স্কুলগামী হবে।

৫.শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে আনন্দমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা,বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে ৷

৬. স্কুলে মিড ডে-মিল চালু করতে হবে ৷

৭.তালিকা ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার খোঁজখবর নিতে হবে।

৮. অর্ধ বেতনে পড়ার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

৯.যতদূর পারা যায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।

১০.চাপ সৃষ্টি করে নয় বরং আনন্দের সাথে কিভাবে তাদের মূল্যয়ন করা যায় সেই পরিকল্পনা করতে হবে ৷

১১.স্মার্ট ফোন সহজ লভ্য করতে পারলেও কিছুটা উপকারে আসবে ৷

১২.অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে ৷

১৩.একটা জাতি গঠনের কান্ডারী হলো শিক্ষক ৷ তাই শিক্ষকদের বিশ্বায়নের তাল মিলিয়ে সঠিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদের আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরী করতে হবে ৷

১৪.সংশ্লিষ্ট মহলকে যুগোপোযোগী চিন্তা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে ৷

এই মহামারীর জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলো না ৷ কিন্তু একথা সত্য যে একদিন নতুন ভোর আসবে ৷ সকল সমস্যা উত্তোরণের জন্য অনেক সুযোগও আসবে ৷ তখন,শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজাতে হবে ৷ সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাই পারে এই শিক্ষা সংকটটে কাটিয়ে তুলতে ৷ সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এই সময় কেটে যাবে এবং দেশের নতুন দিনের আলোর যাত্রীরা নতুনভাবে একটা যুপোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা পাবে

শিক্ষার্থী, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল ৷