“শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার শিক্ষা আজ বড্ড প্রয়োজন”

অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম:

নৈতিক শিক্ষা যদি জারি না রাখা হয় অর্থাৎ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়িত না করা হয়, তা হলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে অকল্যাণ বয়ে আনবে।

নৈতিকতার অবক্ষয়:

মানুষ দৈনন্দিন জীবনে চলতে হলে কিছু ভালো কাজ বা গুণের প্রয়োজন। যখন এই গুণের অভাব ঘটে, তখনই নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে।

যুব সমাজ যদি তাদের চরিত্রে ভালো গুণের সমাবেশ না ঘটায় তা হলে নিজেদের অবনতির সাথে সাথে পরিবার,সমাজ ও দেশের সার্বিক উন্নতিতে বাধার সৃষ্টি হয়।

*নৈতিক মূল্যবোধের পতনের কারণঃ

★ ধর্মীয় বিধি নিষেধকে গুরুত্ব না দেয়া,
★ উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন,
★ কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন,
★ ভোগবাদী মানুষের বিলাসিতার প্রতিযোগিতা,
★ দারিদ্র্যতা,
★ শিক্ষিত বেকারের বেকারত্ব,
★ মাদকাসক্ত হওয়া
★ মানবিকতা লোপ
★ শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার চর্চা না করা, ইত্যাদি।

যুব সমাজের অবক্ষয়ের কারণে জাতীয় জীবনে নেমে আসে জাতীয় মহাদূর্যোগ।

” নৈতিকতার অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই “।

দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য সর্ব প্রথম যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে।

নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেই মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাসহ অনেক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে থাকে।

তাই সৎ ও চরিত্রবান মানুষই দিতে পারে একটি উন্নত সমাজ ব্যবস্হা, দিতে পারে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র ব্যবস্হা।

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় বলেছিলেন, “….অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেলেও মূল্যবোধের দিক দিয়ে পিছিয়ে গেছে “।

তাঁর পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে বলতে হয়,আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ও বিকাশ এখন বড্ড প্রয়োজন। না হলে দেশ সকল ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাবে।

২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গঠনের জন্য ” নৈতিকতার শিক্ষা আজ বড্ড প্রয়োজন “।

লেখকঃ- শিক্ষাবিদ ও গবেষক।