শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান

শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তবে এবারের শীত একটু ভিন্ন আঙ্গিকে হচ্ছে। সব সময়ই ঢাকায় শীত আসে পৌষ মাসের শুরুতে। আর এবার আসলো পৌষ মাসের শেষের সময়ে।

হাড় কাঁপানো শীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে অনেকে গরীব মানুষ এসেছে। তারা এখন আছে রাস্তায় বা যেকোনো স্থানে।

এসব গরীব মানুষ দিন আনে দিন খায়। অথবা ভিক্ষা চায়। এতে করে তাদের অনেক ইনকাম হচ্ছে। তবে যারা গরীব, তাদের অবস্থা খুবই সূচনীয়।

এর মধ্যে করোনার প্রকোট আছে। করোনা যেকোনো মানুষের অস্থির সময় পাড় করাচ্ছে। এই করোনাকালে অনেক জেলায় বন্যাও হয়েছে। এর মধ্যে লকডাউনও শেষ হয়েছে।

মানে গরীব মানুষরা আরো গরীব হচ্ছে। কিন্তু সরকার ও বিরোধীদলের অধিকাংশ নেতাকে ঘর ছাড়া অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

অনেক নেতাই ভিডিও বার্তায় সব কিছু দেখছে। কিন্তু শীতার্থ মানুষের পাশে দাড়াবে কে? এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা শীতার্থ মানুষের দিকে হাত বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য চলমান শৈত্যপ্রবাহ দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। শীত মৌসুম কেটে যাওয়ার আগে আরও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আছে। শীতের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের গ্রামের অভাবী ও গরিব মানুষ।

শীতে অভাবী মানুষের জন্য এখন জরুরি দরকার হয়ে পড়েছে শীতবস্ত্রের। কিন্তু গ্রামের এসব মানুষের অনেকের পক্ষে আলাদাভাবে শীতের কাপড় কেনা দুঃসাধ্য।

প্রতি বছর শীতের সময় দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা এমনকি ব্যক্তিপর্যায়ে শীতার্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। অতীতে সরকারি পর্যায়েও গরিব মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার সে ধরনের উল্লেখ করার মতো কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

সমাজের বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তা হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিপর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি থেকে শীতার্তদের রক্ষা করা যায়।

আমরা জানি, আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। প্রকৃতির আচরণ মানুষের অসহায়ত্বকে আরও প্রকট করে তোলে। হাড়কাঁপানো এই শীতেও অনেককে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হয়। ছিন্নমূল অসহায় মানুষ খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত মোকাবিলার প্রয়াস চালায়।

এমতাবস্থায় শীতার্ত মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানো বেশ দরকার হয়ে পড়েছে।

মানবতার ধর্ম ইসলামেও সবার প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, যার অন্তরে দয়ামায়া আছে, যে পরোপকারী, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে হযরত রাসূলুল্লাহ (স:) বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো অথবা ঋণের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত করো। ’ –সহিহ বোখারি

চলতি শীতে শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতবস্ত্র সরবরাহ করে সাধ্যমতো শীতার্তদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার। নিঃস্বার্থভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করা মানবধর্ম। অসহায় মানুষের দুর্দিনে সাহায্য, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মনমানসিকতা যাদের নেই, তাদের ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। সুতরাং নামাজ, রোজার সঙ্গে কল্যাণের তথা মানবিকতা ও নৈতিকতার গুণাবলি অর্জন করাও জরুরি।

এ জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ দলমত-নির্বিশেষে বিত্তবানদের শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে অবশ্যই দাঁড়ানো উচিত।

হাড়কাঁপানো শীতে যে বিপুল জনগোষ্ঠী বর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্টে দিন যাপন করছে তাদের পাশে দাঁড়ানো ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।