শেখ হাসিনার জন্মদিনের স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করলেন মোস্তফা জব্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ডাক অধিদপ্তর স্মারক ডাকটিকেট অবমু্ক্ত করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেন।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় ডাক ও টেলি যোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতার প্রাক্কালে এই স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেন।

মোস্তাফা জব্বার প্রধানমন্ত্রীকে তার জন্মদিনের শুভেচছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, শেখ হাসিনা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছেন তার বড় হাতিয়ার ডিজিটাল অবকাঠামো। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ অবকাঠামো সম্প্রসারণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন সকল সংস্থাকে তাদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব দেশ প্রেমের মহানব্রত নিয়ে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তর লাভ করছে। শেখ হাসিনা হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে বাঙালি জাতিসত্ত্বার আলোকবর্তিকা। তিনি জন্মেছিলেন বলেই বাঙালি আজ পৃথিবীর বুকে মাঁথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের তার সহপাঠী হিসেবে নিজের চোখে দেখা শেখ হাসিনার চালচলনকে চিরায়ত বাংলার এক অতিসাধারণের জীবনের সাথে তুলনা করে বলেন, তার জীবন যাপন ছিলো খুবই সাধারণ।

তিনি অনাড়ম্বর অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট গোটা পরিবারকেই হারিয়েছেন তিনি। ছোটো বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বিদেশে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তারপর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ করার পর শুরু করেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।

চলার পথ কখনওই সহজ ছিলো না। তিনি সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন উল্লেখ করে বলেন, স্বজন হারানোর শোক বুকে চেপে আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্রের পথযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় উপনীত করেছেন।

মন্ত্রী কোভিড পরিস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও এর অধীন সংস্থা সমূহের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে আপনারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন, কৃষকের ফল ও ফসল রাজধানীতে বিনা মাশুলে পৌঁছে দিয়েছেন। টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ঝুকি নিয়ে কাজ করেছেন।এই জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: নূর-উর-রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক, টেলিকম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহসীনুল আলম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো:শাহাদৎ হোসেন,মো: কামরুজ্জামান, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ, টেশিস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকরুল হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জগদীশ চন্দ্র মন্ডলসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং ডাক অধিদপ্তরসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন সকল সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ ডিজিটাল প্লাটফর্ম এ সংযুক্ত ছিলেন। ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করা ছাড়াও ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটাকার্ড প্রকাশ করা হয়।এ উপলক্ষে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়।

স্মারক ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা জিপিও এর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে বিক্রয় করা হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য জিপিও বা প্রধান ডাকঘরসহ দেশের সকল ডাকঘর থেকে এ স্মারক ডাকটিকেট বিক্রয় হবে। উদ্বোধনী খামে ব্যবহারের জন্য চারটি জিপিওতে বিশেষ সিলমোহরেরব্যবস্থা আছে।